হাসনাত আবদুল্লাহকে থামিয়ে স্পিকার স্মরণ করিয়ে দিলেন— ‘দিস ইজ নট শাহবাগ’
- আপডেট সময়ঃ ১০:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৯ বার পড়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাসকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হট্টগোল ও বাদানুবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল অধিবেশন কক্ষ। সরকারি ও বিরোধী দলের টানা ৪০ মিনিটের তীব্র বিতর্কের এক পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদের মুখে কঠোর অবস্থান নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাজপথের আন্দোলনের মেজাজ সংসদ কক্ষে না দেখানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি সোজাসুজি জানিয়ে দেন, “এটা শাহবাগ চত্বর নয়, এটা সংসদ।”
শুক্রবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সংসদ অধিবেশন শুরু হলে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল’ সংশোধিত আকারে পাসের জন্য উত্থাপন করা হয়। বিলটি টেবিলে আসার পরপরই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের দাবি, সংসদের বিশেষ কমিটিতে বিলটি নিয়ে আগে যে সমঝোতা হয়েছিল, সরকারি দল একতরফাভাবে তার ব্যত্যয় ঘটিয়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যরা একে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ হিসেবে অভিহিত করে কয়েক দফায় বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পাল্টা যুক্তি দেন। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে অধিবেশন কক্ষে সৃষ্টি হয় এক গুমোট পরিবেশ। এক পর্যায়ে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।
অধিবেশন কক্ষে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বর্তমান সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলেন। স্পিকারের মতে, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান সংসদ অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও গণতান্ত্রিক।
ঠিক সেই মুহূর্তেই নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে সরকারি দলের আচরণের তীব্র নিন্দা জানাতে থাকেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাজপথের আন্দোলনের মেজাজে তার এই প্রতিবাদ সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করেন স্পিকার।
হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেনঃ “এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, অন্যপক্ষের কথা শুনতে হবে।”
স্পিকারের এই মন্তব্যের পর সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং জোরে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যায়। তবে হট্টগোলের মধ্যেও স্পিকার নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যান্য তরুণ সদস্যদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদ আবেগ প্রকাশের জায়গা হলেও এখানে কথা বলার সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এখানে মৌখিক বা অগোছালো কথা বলার সুযোগ খুবই কম। আপনাদের কোনো দাবি বা প্রতিবাদ থাকলে নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেবেন। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নোটিশ দেওয়া হলে আমরা তা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে আমলে নেব।”
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন













