একনেকে ৪৮৩ কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন: সভাপতিত্ব করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময়ঃ ১০:৫২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে।
দেশের অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটল বর্তমান সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ মোট ৪৮৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।
সোমবার রাজধানীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের নবম এবং বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং জনসেবা নিশ্চিতে প্রকল্পগুলোর মেয়াদ ও বরাদ্দ প্রয়োজনে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থায়ন ও ব্যয়ের রূপরেখাঃ
অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যয়ের বড় অংশই আসবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।
মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৯০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা সরকারিভাবে জোগান দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট ৯২ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা প্রকল্প ঋণ বা বৈদেশিক অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে।
প্রকল্পসমূহের বিস্তারিত বিবরণঃ
অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বরাদ্দ (জিএসআইডিপি-২): স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত ‘জেনারেল সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-২’ এর গুরুত্ব বিবেচনা করে এর বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ১,৪৫০ কোটি টাকায়।
দেশের গ্রামীণ ও সামাজিক অবকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল সৃষ্টিঃ
প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ প্রকল্পের আকার বাড়ানো হয়েছে। মূল বরাদ্দের সাথে আরও ২২৮ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা যুক্ত হয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৩৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকীকরণঃ
স্বাস্থ্য খাতের সেবার মান বাড়াতে দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক ইমেজিং সুবিধা আধুনিকীকরণ প্রকল্পের বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে। এই প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,২১৩ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপনের এই কাজ শেষ করার নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত।
দন্ত চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্বঃ
‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী আজ সভায় গৃহীত হয়। এই প্রকল্পে অতিরিক্ত ২৬ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩৯ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা। ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে ডেন্টাল কলেজটির পূর্ণাঙ্গ স্থাপনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চর উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধনঃ
অন্যান্য প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও ‘চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প-৪ (সিডিএসপি-৪)’ এর ব্যয় কমানো হয়েছে। যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের মোট ব্যয় এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাঃ
সভায় বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এর সুফল পেতে পারে।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তথ্যসহায়তাঃবাসস













