পশ্চিম ইরাকে মার্কিন জ্বালানি বিমান বিধ্বস্ত: চার ক্রুর মৃত্যু নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
- আপডেট সময়ঃ ০৭:১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ফের উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ (KC-135) স্ট্র্যাটোট্যাংকারটিতে থাকা ছয়জন ক্রু মেম্বারের মধ্যে চারজনই প্রাণ হারিয়েছেন।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বাকি দুই ক্রু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে দুর্গম এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। তবে আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিমানটি কীভাবে ভূপাতিত হলো তা নিয়ে সেন্টকম এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠে এসেছে।
শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী বিমানটি অন্য একটি মার্কিন বিমানের সাথে খুব কাছাকাছি চলে আসায় অথবা মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের উপক্রম হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
তবে যে দ্বিতীয় বিমানটির সাথে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, এই ঘটনার পেছনে শত্রুদেশের কোনো হামলা বা মিত্রশক্তির ভুল নিশানার (ফ্রেণ্ডলি ফায়ার) কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মূলত যান্ত্রিক বা কৌশলগত কোনো ত্রুটির কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে মার্কিন বাহিনীর এই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ইরাক ভিত্তিক ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’।
নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় তারা দাবি করেছে যে, তাদের যোদ্ধারাই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁত নিশানায় মার্কিন স্ট্র্যাটোট্যাংকারটি ভূপাতিত করেছে। তাদের এই দাবি সত্য হলে তা ইরাকে মার্কিন উপস্থিতির জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কেসি-১৩৫ এর মতো বিমানগুলো যখন আকাশ যুদ্ধের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে এবং যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি ভরে দিয়ে অভিযানের সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়, তখন এমন একটি দামি বিমানের ধ্বংস হওয়া মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় কৌশলগত ক্ষতি।
এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে কাতারে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল বিধ্বস্ত হওয়ার সময়ও এমন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। সেসময় কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলের কথা বলা হলেও, ইরান ও তার মিত্রদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পশ্চিম ইরাকের এই বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রকৃত সত্য বের করে আনতে এখন যেমন উদ্ধার অভিযান চলছে, তেমনি পর্দার আড়ালে চলছে সামরিক ও গোয়েন্দাবি বিশ্লেষণ।
নিখোঁজ দুই ক্রুর ভাগ্য এবং এই বিমান ধ্বংসের প্রকৃত কারণ শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্বমহল।




















