০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

রাজধানীতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের ধাক্কা, চালক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৫১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৭ বার পড়া হয়েছে।

‎রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

 

নাঈম পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

‎স্বজন ও পুলিশের তথ্যমতে, নাঈম কিবরিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন, সেটিও ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসীরা।

‎ভাটারা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার) চালাচ্ছিলেন নাঈম। একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারটির ধাক্কা লাগে। তখন মোটরসাইকেলের চালকসহ অজ্ঞাতপরিচয় যুবকেরা নাঈমকে প্রাইভেট কার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। তারা তাকে বেদম মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান।

 

খবর পেয়ে তার খালাতো ভাই রফিকুল এসে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎রাতেই হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

‎নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল বলেন, ১০ দিন আগে তিনি পাবনা থেকে এসে ঢাকার পূর্বাচলে তার (রফিকুল) বাসায় ওঠেন। পাবনায় নাঈমের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় মামলা রয়েছে। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।

‎ঘটনার বিষয়ে রফিকুল বলেন, নাঈম তার এক বন্ধুর প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয়েছিলেন। রাতে তার মুঠোফোনে কল দিলে বসুন্ধরা এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী ধরেন। নিরাপত্তাকর্মী বলেন, নাঈমকে মারধর করে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর তিনি (রফিকুল) ঘটনাস্থলে গিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যান।

‎পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই তারা তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি। নাঈমের পরিবার ও সহকর্মীরা তার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, নাঈম একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান আইনজীবী ছিলেন এবং তার কোনো শত্রু ছিল না বলে তাদের ধারণা।

‎এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের সহিংসতা এলাকায় আগে ঘটেনি এবং তারা এ ঘটনায় আতঙ্কিত। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।

‎তথ্যসহায়তাঃইত্তেফাক

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

রাজধানীতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের ধাক্কা, চালক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময়ঃ ০৭:৫১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

‎রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

 

নাঈম পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

‎স্বজন ও পুলিশের তথ্যমতে, নাঈম কিবরিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন, সেটিও ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসীরা।

‎ভাটারা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার) চালাচ্ছিলেন নাঈম। একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারটির ধাক্কা লাগে। তখন মোটরসাইকেলের চালকসহ অজ্ঞাতপরিচয় যুবকেরা নাঈমকে প্রাইভেট কার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। তারা তাকে বেদম মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান।

 

খবর পেয়ে তার খালাতো ভাই রফিকুল এসে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎রাতেই হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

‎নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল বলেন, ১০ দিন আগে তিনি পাবনা থেকে এসে ঢাকার পূর্বাচলে তার (রফিকুল) বাসায় ওঠেন। পাবনায় নাঈমের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় মামলা রয়েছে। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।

‎ঘটনার বিষয়ে রফিকুল বলেন, নাঈম তার এক বন্ধুর প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয়েছিলেন। রাতে তার মুঠোফোনে কল দিলে বসুন্ধরা এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী ধরেন। নিরাপত্তাকর্মী বলেন, নাঈমকে মারধর করে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর তিনি (রফিকুল) ঘটনাস্থলে গিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যান।

‎পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই তারা তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি। নাঈমের পরিবার ও সহকর্মীরা তার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, নাঈম একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান আইনজীবী ছিলেন এবং তার কোনো শত্রু ছিল না বলে তাদের ধারণা।

‎এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

‎স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের সহিংসতা এলাকায় আগে ঘটেনি এবং তারা এ ঘটনায় আতঙ্কিত। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।

‎তথ্যসহায়তাঃইত্তেফাক