লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষ: ওসিসহ আহত ২০, রণক্ষেত্র চকবাজার
- আপডেট সময়ঃ ০৮:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ৬ বার পড়া হয়েছে।
প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ও কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মিছিলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা শহর। রোববার বিকেলে শহরের চকবাজার এলাকায় পুলিশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো শহরে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার শুরু গত শনিবার রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ফাহিমের সাথে ছাত্রদল নেতা আকবর হোসেন মুন্নার বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
এই ঘটনার জেরে দুই পক্ষই রোববার বিকেলে চকবাজার জামে মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।
আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় জেলা প্রশাসন রোববার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরো পৌর এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা চকবাজার এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের ১৪৪ ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।
শিক্ষার্থীদের হামলার মুখে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এতে জামায়াত নেতা শহিদউল্যাহসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদ অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, শনিবার রাতে গুলিবিদ্ধ ‘জুলাই যোদ্ধা’ ফাহিমের ওপর পরিকল্পিত হামলার প্রতিবাদ জানাতে তারা এসেছিলেন, কিন্তু পুলিশ ও ছাত্রদল সম্মিলিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়।
সহিংসতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ দুজনকে আটক করেছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
তথ্যসহায়তাঃইন্ডিপেন্ডেন্টটিভি











