ভিডিও ভাইরাল, পিয়ন বরখাস্তঃ
সিলেটে ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতাহাতিঃ
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে।
সরকারি অফিসের ভেতরেই দরজা বন্ধ করে মারামারিতে জড়ালেন দুই সরকারি কর্মী। সিলেটের গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ঘটনার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
এই ঘটনায় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত অফিস সহায়ককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোয়াইনঘাটের ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়নের তোয়াকুল ভূমি অফিসে এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিন কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হন।
এই দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা, অর্থাৎ ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সাথে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সাধারণ তর্কাতর্কি গড়ায় শারীরিক সংঘর্ষে।
তহশিলদার দেলোয়ার হোসেনের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে তারা একে অপরের ওপর চড়াও হন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পেশাদারিত্বের তোয়াক্কা না করে তারা একে অন্যের কলার চেপে ধরেছেন এবং কিল-ঘুষি মারছেন।
বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতারা বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করলেও তারা থামছিলেন না। পরবর্তীতে এক যুবক কক্ষের ভেতর প্রবেশ করে তাদের দুজনকে আলাদা করেন এবং আয়াত উদ্দিনকে কক্ষ থেকে বের করে দেন।
অফিসের ভেতরে দুই সরকারি কর্মীর এমন মারামারির দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে কেউ একজন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, কেবল দেরিতে আসা নিয়ে এমন ভয়াবহ সংঘর্ষ হওয়ার কথা নয়।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই অফিসটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। জমির বিভিন্ন নামজারি বা খাজনা সংক্রান্ত সেবার জন্য অবৈধ লেনদেনের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার জাহিন শাকিল ভূঞা নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন অনুসারে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে অফিস সহায়ক আয়াত উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জেলা প্রশাসক কর্তৃক একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
তথ্যসহায়তাঃসিলেটভিউ24




















