০১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
ইফতারে বিষাক্ত হাইড্রোজ, কাপড়ের রং ও ওষুধের অনিয়মঃ

সুনামগঞ্জে মাসজুড়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, অসাধু ব্যবসায়ীদের বড় অংকের জরিমানা

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:২৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে।

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ইফতার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 

জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক অভিযানে উঠে এসেছে পিলে চমকানো সব অনিয়ম। বিশেষ করে জিলাপিতে বিষাক্ত হাইড্রোজ মেশানো এবং ভুল ওষুধ বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধের দায়ে বড় অংকের জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানের একটি বড় অংশ ছিল শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিগুলোতে তদারকি করা। এসময় ‘সিটি ফার্মেসী’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে শিশু রোগীর জন্য ভুল ওষুধ দেওয়ার প্রমাণ পায় অধিদপ্তর। মানুষের জীবন নিয়ে এমন বিপজ্জনক খামখেয়ালিপনার দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা সহকারী পরিচালক জানান, ওষুধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো প্রকার অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

‎অন্যদিকে, রমজানে ফলের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাচ্ছেন। অভিযানে একটি কলার আড়তে কেমিক্যাল দিয়ে বিষাক্ত প্রক্রিয়ায় কলা পাকানোর প্রমাণ মেলায় সংশ্লিষ্ট আড়তদারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

‎বাজার তদারকির সময় দেখা যায়, ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ জিলাপিকে মচমচে ও দীর্ঘক্ষণ উজ্জ্বল রাখতে মেশানো হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’।

এছাড়া ইফতার সামগ্রীতে টেক্সটাইল বা কাপড়ের রঙ ব্যবহারের মতো ভয়াবহ অনিয়মও ধরা পড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে মানুষের পাতে যে বিষ তুলে দিচ্ছেন, তা দমনে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর জেলাজুড়ে নিয়মিত এই ঝটিকা অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

‎সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, রমজান মাসজুড়ে এই বিশেষ তদারকি কার্যক্রম চলবে। যারা জেনে-বুঝে খাদ্যে ভেজাল মেশাচ্ছেন এবং ওষুধের মতো জীবনদায়ী বিষয় নিয়ে নয়ছয় করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। জনস্বার্থ রক্ষায় এই অভিযান কেবল জরিমানা নয়, বরং অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ইফতারে বিষাক্ত হাইড্রোজ, কাপড়ের রং ও ওষুধের অনিয়মঃ

সুনামগঞ্জে মাসজুড়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, অসাধু ব্যবসায়ীদের বড় অংকের জরিমানা

আপডেট সময়ঃ ০৪:২৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ইফতার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 

জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক অভিযানে উঠে এসেছে পিলে চমকানো সব অনিয়ম। বিশেষ করে জিলাপিতে বিষাক্ত হাইড্রোজ মেশানো এবং ভুল ওষুধ বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধের দায়ে বড় অংকের জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অভিযানের একটি বড় অংশ ছিল শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিগুলোতে তদারকি করা। এসময় ‘সিটি ফার্মেসী’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে শিশু রোগীর জন্য ভুল ওষুধ দেওয়ার প্রমাণ পায় অধিদপ্তর। মানুষের জীবন নিয়ে এমন বিপজ্জনক খামখেয়ালিপনার দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা সহকারী পরিচালক জানান, ওষুধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো প্রকার অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

‎অন্যদিকে, রমজানে ফলের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাচ্ছেন। অভিযানে একটি কলার আড়তে কেমিক্যাল দিয়ে বিষাক্ত প্রক্রিয়ায় কলা পাকানোর প্রমাণ মেলায় সংশ্লিষ্ট আড়তদারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

‎বাজার তদারকির সময় দেখা যায়, ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ জিলাপিকে মচমচে ও দীর্ঘক্ষণ উজ্জ্বল রাখতে মেশানো হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’।

এছাড়া ইফতার সামগ্রীতে টেক্সটাইল বা কাপড়ের রঙ ব্যবহারের মতো ভয়াবহ অনিয়মও ধরা পড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে মানুষের পাতে যে বিষ তুলে দিচ্ছেন, তা দমনে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর জেলাজুড়ে নিয়মিত এই ঝটিকা অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

‎সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, রমজান মাসজুড়ে এই বিশেষ তদারকি কার্যক্রম চলবে। যারা জেনে-বুঝে খাদ্যে ভেজাল মেশাচ্ছেন এবং ওষুধের মতো জীবনদায়ী বিষয় নিয়ে নয়ছয় করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। জনস্বার্থ রক্ষায় এই অভিযান কেবল জরিমানা নয়, বরং অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা।