অর্থ উপদেষ্টা সচিবালয়ে প্রায় বেলা আড়াইটা থেকে অবরুদ্ধ
- আপডেট সময়ঃ ০৮:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৪০ বার পড়া হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে তাঁর কার্যালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন সচিবালয়ে কর্মরত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সচিবালয়ে কর্মরত সব কর্মচারীর জন্য ২০ শতাংশ ‘সচিবালয় ভাতা’র দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন। এর অংশ হিসেবেই অর্থ উপদেষ্টাকে আজ বুধবার অবরুদ্ধ করেন তাঁরা। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায়ও অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন অর্থ উপদেষ্টা।
অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে চারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অর্থ উপদেষ্টা তাঁর কার্যালয়ে আছেন। আর আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিসংবলিত স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁরা এখনো অর্থ বিভাগের সামনে অবস্থান করছেন।
এ দিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্ধ্যায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বৈঠক করেছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি হবে– এমন বার্তা আন্দোলনকারীদের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানেননি। আজই প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান এবং তাদের অবস্থান ধরে রাখেন।
সচিবালয়ের ভেতরে অর্থ বিভাগের জন্য ১৮ তলা ভবন রয়েছে। এ ভবনের চারতলায় অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়। আজ বেলা দুইটার দিকে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
আজ সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে জাতীয় ভ্যাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা। বক্তব্য শেষে তখনো ফেরেননি তিনি। ফেরার পর কর্মচারীরা খবর পেয়ে আবার তাঁর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।
আজ বেলা আড়াইটার দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত তিন শতাধিক নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী সচিবালয়ে জড়ো হন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। কর্মচারীরা এ সময় হ্যান্ডমাইকে ভাতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
কর্মচারীদের দাবি হচ্ছে উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সচিবেরা রাতে যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ততক্ষণ তাঁদেরও অফিস করতে হয়। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতনকাঠামোর বাইরে নানা ধরনের ভাতা পেলেও সচিবালয়ের কর্মচারীদের তা দেওয়া হয় না।
আন্দোলনকারীদের একজন জানান, দীর্ঘদিন থেকেই তাঁদের ক্ষোভ রয়েছে। রেশনের দাবিতেও তাঁরা অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। তখন তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, রেশনের বিবেচনা করবেন; কিন্তু তিনি কথা রাখেননি।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা চালুর ঘোষণা দিয়ে তা-ও কার্যকর করেনি সরকার। নতুন বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অর্থ উপদেষ্টা এরই মধ্যে কয়েকবার বলেছেন, বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করবে নির্বাচিত সরকার। এর আগে গত ২২ জুন সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতেও অর্থ বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন কর্মচারীরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সচিবালয়ের নন-ক্যাডার কর্মচারীরা মনে করছেন, তাঁদের দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়ে আসছে। এর ফলে তাঁরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, অর্থ উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করতে চাইছেন যে তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে সচিবালয়ের পরিবেশ কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হলেও উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছেন। কর্মচারীদের দাবি ও সরকারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা এখন সময়ের দাবি।
তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো





















