আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর–বিশ্বম্ভরপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন
- আপডেট সময়ঃ ১১:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০৫ বার পড়া হয়েছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর–বিশ্বম্ভরপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় জেলা শহরের পৌর এলাকার নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, “আমার প্রতি জনপদের মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আছে। মানুষের প্রতি ভালোবাসাকেই আমি শক্তি হিসেবে দেখি। জীবনের বাকি সময় জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”
তিনি আরও বলেন, “সুনামগঞ্জ—বিশ্বম্ভরপুর অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো অর্জিত হয়নি। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ দেশের মধ্যে পিছিয়ে রয়েছে। এ বৈষম্যের পরিবর্তন চাই। সন্ত্রাস–চাঁদাবাজিমুক্ত শান্তির সুনামগঞ্জ গড়তে আমি বদ্ধপরিকর।”
উল্লেখ্য, দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্তমান জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চারবারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র ছিলেন। চলমান নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
তবে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে চারটায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের নাম ঘোষণা করেন। এর পর রাতেই ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, যা রাতের মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
এ ঘোষণা সামনে রেখে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনেকেই মনে করছেন, দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের এই সিদ্ধান্ত সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণ নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে তার প্রতি যে আস্থা ও সমর্থন রয়েছে, তা তাকে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
এদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিভাজন দেখা দিয়েছে। দলের মনোনয়ন না পেয়ে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তে অনেকেই হতাশ হলেও, তার প্রতি ব্যক্তিগত সমর্থন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তারা নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জনগণ এখন আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক শুরু এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতার জন্য। এই নির্বাচন এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।





















