০৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

আমরাও এখন একটি আপদকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি- সিলেটে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট এবং অস্থির বাজার পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সকল দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

শুক্রবার বিকেলে সিলেট সফরে গিয়ে তিনি সরকারের এই কঠোর ও সতর্কতামূলক অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।

সংক্ষিপ্ত সফরে শুক্রবার দুপুরে সিলেটে পৌঁছান মন্ত্রী। এরপর বিকেল চারটায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও বর্তমানে জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে ঋতুভেদে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেয়, যাকে আমরা ‘ডে-লাইট সেভিং’ বলি। এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। আমরাও এখন একটি আপদকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হতে হবে।”

 

‎সন্ধ্যা ৬টা থেকে দোকানপাট বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্যুতের ‘পিক আওয়ার’ শুরু হয়, যখন চাহিদাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এই সময় যদি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা যায়, তবে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং সাশ্রয়কৃত বিদ্যুৎ অন্য প্রয়োজনীয় খাতে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তিনি দেশবাসীকে শৃঙ্খলাবোধের পরিচয় দিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করার অনুরোধ জানান।

‎জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের শিল্পকারখানাগুলো স্থবির হয়ে পড়বে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশের অধিকাংশ বড় শিল্পকারখানা মূলত গ্যাস দ্বারা পরিচালিত হয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় কলকারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কোন খাতে কতটুকু জ্বালানি লাগবে, তার সঠিক হিসাব করেই সরকার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তাই শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

 

‎বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা ও রপ্তানি কমে যাওয়া নিয়ে মন্ত্রী একটি বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে মানুষের ভোগ বা খরচের প্রবণতা কমেছে। এর ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য দেশ থেকেও রপ্তানি একই হারে কমেছে। এটি একটি সামষ্টিক বৈশ্বিক মন্দা, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর করে না।” তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার রপ্তানিকারকদের সাথে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

‎মন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত সিলেট সফর ও বৈঠককালে স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আমরাও এখন একটি আপদকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি- সিলেটে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

আপডেট সময়ঃ ০৯:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট এবং অস্থির বাজার পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সকল দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

শুক্রবার বিকেলে সিলেট সফরে গিয়ে তিনি সরকারের এই কঠোর ও সতর্কতামূলক অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।

সংক্ষিপ্ত সফরে শুক্রবার দুপুরে সিলেটে পৌঁছান মন্ত্রী। এরপর বিকেল চারটায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও বর্তমানে জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে ঋতুভেদে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেয়, যাকে আমরা ‘ডে-লাইট সেভিং’ বলি। এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। আমরাও এখন একটি আপদকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হতে হবে।”

 

‎সন্ধ্যা ৬টা থেকে দোকানপাট বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্যুতের ‘পিক আওয়ার’ শুরু হয়, যখন চাহিদাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এই সময় যদি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা যায়, তবে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং সাশ্রয়কৃত বিদ্যুৎ অন্য প্রয়োজনীয় খাতে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তিনি দেশবাসীকে শৃঙ্খলাবোধের পরিচয় দিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করার অনুরোধ জানান।

‎জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের শিল্পকারখানাগুলো স্থবির হয়ে পড়বে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশের অধিকাংশ বড় শিল্পকারখানা মূলত গ্যাস দ্বারা পরিচালিত হয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় কলকারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কোন খাতে কতটুকু জ্বালানি লাগবে, তার সঠিক হিসাব করেই সরকার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তাই শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

 

‎বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা ও রপ্তানি কমে যাওয়া নিয়ে মন্ত্রী একটি বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে মানুষের ভোগ বা খরচের প্রবণতা কমেছে। এর ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য দেশ থেকেও রপ্তানি একই হারে কমেছে। এটি একটি সামষ্টিক বৈশ্বিক মন্দা, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর করে না।” তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার রপ্তানিকারকদের সাথে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

‎মন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত সিলেট সফর ও বৈঠককালে স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।