মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পদধ্বনিঃ
ইরানে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ঢাকা, সংযমের আহ্বান
- আপডেট সময়ঃ ০৮:২৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / ৭ বার পড়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ইরানে অবস্থানরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুদ্ধের পথ পরিহার করে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ বিবৃতিতে বাংলাদেশের এই অবস্থান পরিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে রেড অ্যালার্টঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরানে কর্মরত ও বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শত্রুতা ও সহিংসতার বিস্তার ঘটলে তা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম বিপন্ন করে তুলবে বলে বাংলাদেশ সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বিবৃতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট করে এই দেশগুলোর নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অখণ্ডতা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে নিজের জোরালো অবস্থান জানান দিল।
”যুদ্ধ নয়, সমাধান কূটনীতিতে”
বাংলাদেশ সরকার তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, শক্তি প্রদর্শন বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: “বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে। আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে সংলাপ এবং কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও প্রথা মেনে অনতিবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
প্রবাসীদের প্রতি নির্দেশনাঃ
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) প্রাথমিক পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসা কেবল আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার সাথেও নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে- এমনটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন










