০৫:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
এলাকায় আতঙ্ক, ধর্ষণের সন্দেহঃ

‎ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে।

‎পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার কিশোরী নাতনি জামিলা আক্তারের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

‎ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

‎ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার দিকে নজিমুদ্দিনের বাড়ি থেকে গোঙানি বা কান্নার অস্পষ্ট শব্দ শোনা গিয়েছিল। কয়েকজন প্রতিবেশী টর্চ নিয়ে রাস্তায় বের হলেও কিছুক্ষণ পর সব নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ডাকাতি বা অন্য কিছু ভেবে পুনরায় ঘরে ফিরে যান। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন স্থানীয়রা।

‎ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে নাতনি জামিলাকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। বাড়ির কয়েকশ গজ দূরে একটি সরিষা ক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের অবস্থা দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

‎সকালে খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামানসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ও সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।

‎ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন: “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। বাড়ির উঠানে দাদির মরদেহ এবং ক্ষেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ মেলায় ঘটনার পেছনে একাধিক অপরাধী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। আসামিদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।”

‎নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো শত্রু ছিল কিনা তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে বাড়িতে কোনো লুটতরাজ হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘ডাবল মার্ডারের’ সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

‎মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের না হলেও মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

এলাকায় আতঙ্ক, ধর্ষণের সন্দেহঃ

‎ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যা

আপডেট সময়ঃ ০৮:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার কিশোরী নাতনি জামিলা আক্তারের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

‎ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

‎ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার দিকে নজিমুদ্দিনের বাড়ি থেকে গোঙানি বা কান্নার অস্পষ্ট শব্দ শোনা গিয়েছিল। কয়েকজন প্রতিবেশী টর্চ নিয়ে রাস্তায় বের হলেও কিছুক্ষণ পর সব নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ডাকাতি বা অন্য কিছু ভেবে পুনরায় ঘরে ফিরে যান। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন স্থানীয়রা।

‎ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে নাতনি জামিলাকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। বাড়ির কয়েকশ গজ দূরে একটি সরিষা ক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের অবস্থা দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

‎সকালে খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামানসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ও সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।

‎ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন: “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। বাড়ির উঠানে দাদির মরদেহ এবং ক্ষেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ মেলায় ঘটনার পেছনে একাধিক অপরাধী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। আসামিদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।”

‎নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো শত্রু ছিল কিনা তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে বাড়িতে কোনো লুটতরাজ হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘ডাবল মার্ডারের’ সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

‎মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের না হলেও মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24