উই আর নট হ্যান্ডিক্যাপ, সিট ডাউন প্লিজ- চিফ প্রসিকিউটরকে ট্রাইব্যুনাল
- আপডেট সময়ঃ ১১:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৬৯ বার পড়া হয়েছে।
টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ রিভিউ পিটিশনের কথা জানিয়ে মামলার সূচনা বক্তব্যর শুরুর তারিখ নির্ধারণের জন্য আরও ৩ মাস সময় চান আইনজীবী তাবারক হোসেন।
এ সময় বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ আসামিপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা রিভিউ পিটিশন করলে আমরা আপনাদের সময় আবেদনটি বিবেচনা করবো। তাবারক হোসেন বলেন, আমাদের পিটিশনের পরিকল্পনা আছে। এর তীব্র বিরোধিতা করে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি শুধু আসামিপক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। প্রসিকিউশনের বক্তব্যও শুনতে হবে।
তখন জাস্টিস শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, উই আর নট হ্যান্ডিক্যাপ। আমরা ওপিনিয়ন দিচ্ছি। এখন অর্ডার পাস করিনি। চিফ প্রসিকিউটর সিটডাউন, প্লিজ। পরে ট্রাইব্যুনাল র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরুর আদেশ ও মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্টের জন্য ২১শে জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এ মামলায় জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে ১০ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে সাব-জেলে রয়েছেন। এসব সেনা অফিসাররা র্যাবের দায়িত্ব পালনকালে গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ফর্মাল চার্জে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
উই আর নট হ্যান্ডিক্যাপ। আমরা ওপিনিয়ন দিচ্ছি। এখন অর্ডার পাস করিনি। চিফ প্রসিকিউটর সিটডাউন, প্লিজ।
উই আর নট হ্যান্ডিক্যাপ, আমরা অপিনিয়ন দিচ্ছি এখনো অর্ডার পাস করিনি: এদিন গ্রেপ্তার ৭ আসামির পক্ষে ডিফেন্স কাউন্সিল তাবারাক হোসেন মামলার প্রস্তুতির জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে তিন মাস সময় আবেদন করেন। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ। প্রসিকিউশনের সরবরাহকৃত ডকুমেন্টসগুলো পড়তে হবে। প্লেস অব অকারেন্স ভিজিট করতে হবে। রিভিউ পিটিশন দেবো, এর জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, জাস্টিস ডিলেইড জাস্টিস ডিনাইড, তেমনি জাস্টিস হারি, জাস্টিস বারিড (বিলম্বিত ন্যায়বিচার মানে ন্যায়বিচার অস্বীকার করা, তেমনি দ্রুত বিচার মানে বিচারককে কবর দেয়া)। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিচার দ্রুত হচ্ছে না। আপনি এক মাস আগে ডকুমেন্ট পেয়েছেন। ৩ সপ্তাহ সময় দিলে দুই মাস সময় হয়। এটি ফেয়ার ট্রায়ালের জন্যে যথেষ্ট টাইম।
একপর্যায়ে বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ডিফেন্স কাউন্সিলকে বলেন, যদি আপনি ফর্মাল চার্জের জন্য রিভিউ পিটিশন করেন, তখন আমরা সময় আবেদনটি বিবেচনা করবো। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর দাঁড়িয়ে যান। তিনি বলেন, আপনি একপক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। প্রসিকিউশনের বক্তব্য শোনার পরে ট্রাইব্যুনাল অর্ডার দেবে।
তখন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, ইউ হ্যাব টু হাব দ্য পেইশেন্স (আপনাকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে)। আপনি যেভাবে কথা বলেন এটি কোর্টের ডেকোরামের মধ্যে পড়ে না। আমি জাস্ট মতামত দিচ্ছি, আর আপনি সব কিছুই উঠে দাঁড়িয়ে যান, আমরা আপনার থেকে এটা এক্সপেক্ট করি না। পরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আপনি একপক্ষের বক্তব্য শুনে ডিফেন্সকে সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছেন। এতো সময় দেয়ার বিপক্ষে প্রসিকিউশনের সিরিয়াস আপত্তি আছে।
তখন জাস্টিস শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, উই আর নট হ্যান্ডিক্যাপ। আমরা অপিনিয়ন দিচ্ছি। এখন অর্ডার পাস করিনি। চিফ প্রসিকিউটর সিট ডাউন, প্লিজ।
এরপর, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, মাঝে-মধ্যে কোর্টের অবজারভেশনটি অর্ডারের মতো মনে হয়, এজন্য চিফ প্রসিকিউটর আপত্তি জানাতে দাঁড়িয়েছেন।
সাক্ষীদের হত্যা করা, চাকু মারা হচ্ছে, প্রসিকিউশনসহ ফুল বডি মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে: শুনানির একপর্যায়ে তাবারক হোসেন পুনরায় সময় আবেদন করে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমি অসুস্থ এতোগুলো ডকুমেন্টস পড়তে সময়ের প্রয়োজন। আমাকে তিন মাস সময় দেন।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, আপনার সব ডকুমেন্ট পড়তে হবে না। শুধু রিলিভেন্ট অংশটুকু পড়বেন। এ সময় বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, আপনি অপ্রয়োজনীয় সময় চাইবেন না। ট্রাইব্যুনাল চেয়ার বলেন, আপনি তিন সপ্তাহ সময় পাবেন। তাবারক বলেন, এটি আমাদের সঙ্গে ইনজাস্টিস (অবিচার) করা হচ্ছে। ডিজিএফআইয়ের মামলায় সময় আর বেশি দেয়া হয়েছিল।
পরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আসামিপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে বলেন, মামলার প্রিপারেশনের জন্য আপনাদের ৪ সপ্তাহ সময় দেয়া হলো। কিন্তু তাবারক ৩ মাস সময় চান। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আবার দাঁড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনটা হলো স্পেশাল। এ আইনে দ্রুত বিচারের কথা বলা আছে। কিন্তু ডিফেন্স এতো সময় চেয়ে এ ট্রায়ালকে ড্রাগ করার চেষ্টা করছে। তাদের অন্য ইন্টেনশন (মতলব) আছে। তাজুল আরও বলেন, আগে ১৫ বছর আমরাও ডিফেন্সে ছিলাম। তখনকার ট্রাইব্যুনালও আমরা দেখেছি। আমাদের এতো সময় দেয়া হয়নি। চিফ প্রসিকিউটরের এমন কথার প্রেক্ষিতে বিচারপতি শফিউল বলেন, তখনকার ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে আপনাদের গ্রিফ (মনোকষ্ট) আছে। ট্রাইব্যুনালের ওপর আপনাদের যে কারণে গ্রিফ ছিল। সে জন্যে তো আপনাদের এখন বোঝা উচিত।
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের মামলার সাক্ষীদের হত্যা করা হচ্ছে, চাকু মারা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে, সাক্ষী থেকে শুরু করে প্রসিকিউশনসহ ফুল বডি মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, আর তারা (ডিফেন্স) বাইরে গিয়ে বলেন যে, এই ট্রাইব্যুনালে আর্মি অফিসারদের বিচার হচ্ছে, আর্মিকে ডিসমেন্টাল করা হচ্ছে, ওনারা হাইফ তুলে সেনাবাহিনীকে মুখোমুখি করার চেষ্টা করছে। তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, উই আর নট ডিলিস উইথ আর্মি, উই উইল কন্টিনিউ দ্য ট্রায়াল, ডিলে হবে না। আমরা সেনা অফিসারদের বিচার করছি না। তখন তাবারক হোসেন দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ওনি (চিফ প্রসিকিউটর) বলছেন আমি নাকি ডিলেই করছি, তাহলে আমিও তো বলতে পারি ওনি তাড়াহুড়ো করছেন। পরে, তাজুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষের আবেদনের জন্য ৩ সপ্তাহের পাশাপাশি আরও ৩-৪ দিন সময় দেয়া যেতে পারে। তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, চার সপ্তাহ দিলাম।
এরপর, ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচার কার্যক্রমের দ্রুততার ওপর জোর দেন এবং বলেন যে, মামলার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত বিচার করা প্রয়োজন এবং সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন তার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন। এদিকে, চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং বলেন যে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান সকল পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন











