০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
স্থানীয় বিএনপি নেতার দিকে অভিযোগ

‎ঋণের নামে প্রতারণা: ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মারা গেলেন কৃষক সিরাজুল

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০১:০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৮ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের এরালিয়া গ্রামে ঋণের জালে ফেলে এক হতদরিদ্র পরিবারের বসতভিটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। 

‎প্রতারণার এই শোক সইতে না পেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত (স্ট্রোক) হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎অভিযুক্তরা হলেন— কাঠইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাহিদ আলী (গ্রাম: এরালিয়া) এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার মোস্তাকিন মিয়া (গ্রাম: চুয়াপুর)।

‎স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পেশায় হাঁস খামারি সিরাজুল ইসলাম ২০১৩ সালে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে ঋণের সন্ধান করছিলেন। ৮ সন্তান ও বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের চাপে দিশেহারা সিরাজুলের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন প্রতিবেশী বিএনপি নেতা মোশাহিদ আলী। বছরে ১৩ শতাংশ লাভে দুই বছরের জন্য ২ লক্ষ টাকা ঋণ দিতে সম্মত হন তিনি।

‎ঋণ প্রদানের শর্ত হিসেবে সিরাজুল ইসলাম ও তার মা আয়শা বেগমের কাছ থেকে একাধিক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন মোশাহিদ ও তার সহযোগী মোস্তাকিন। সরল বিশ্বাসে সিরাজুল ও তার মা সেই সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছিলেন।

‎ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সিরাজুল ইসলাম লভ্যাংশসহ মূল টাকা ফেরত দিতে চাইলে অভিযুক্তরা সময়ক্ষেপণ শুরু করেন। প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে যখন সিরাজুল নিজের ভিটের বাঁশঝাড় কাটতে যান। তখন মোশাহিদ মিয়া তাকে বাধা দেন এবং পুরো জায়গার মালিকানা দাবি করেন।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ঋণের কথা বলে নেওয়া সেই সাদা স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিরাজুল ও তার মায়ের অগোচরে ২২ শতাংশ বসতভিটা ও জমি অন্য নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। মোশাহিদ মিয়া তার নিজের নামে জমি না লিখে শ্যালক হোসাইন আহমদের (শান্তিগঞ্জ উপজেলা) নামে এবং মোস্তাকিন মিয়া তার শ্যালক মো. জায়ফর মিয়ার (দিরাই উপজেলা) নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেন।

‎ভিটেমাটি হারানোর শোকে গত চার বছর আগে মারা যান সিরাজুলের মা আয়শা বেগম। এরপর থেকে সিরাজুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশি বৈঠকের চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে বৈঠক এড়িয়ে চলেন।

‎সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের সহায়-সম্বল হারানোর দুঃখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন সিরাজুল ইসলাম।

‎ভুক্তভোগী পরিবারের এই করুণ পরিণতিতে এরালিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা একজন দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হোক।

‎এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোশাহিদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

স্থানীয় বিএনপি নেতার দিকে অভিযোগ

‎ঋণের নামে প্রতারণা: ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মারা গেলেন কৃষক সিরাজুল

আপডেট সময়ঃ ০১:০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

‎সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের এরালিয়া গ্রামে ঋণের জালে ফেলে এক হতদরিদ্র পরিবারের বসতভিটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। 

‎প্রতারণার এই শোক সইতে না পেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত (স্ট্রোক) হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎অভিযুক্তরা হলেন— কাঠইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাহিদ আলী (গ্রাম: এরালিয়া) এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার মোস্তাকিন মিয়া (গ্রাম: চুয়াপুর)।

‎স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পেশায় হাঁস খামারি সিরাজুল ইসলাম ২০১৩ সালে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে ঋণের সন্ধান করছিলেন। ৮ সন্তান ও বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের চাপে দিশেহারা সিরাজুলের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন প্রতিবেশী বিএনপি নেতা মোশাহিদ আলী। বছরে ১৩ শতাংশ লাভে দুই বছরের জন্য ২ লক্ষ টাকা ঋণ দিতে সম্মত হন তিনি।

‎ঋণ প্রদানের শর্ত হিসেবে সিরাজুল ইসলাম ও তার মা আয়শা বেগমের কাছ থেকে একাধিক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন মোশাহিদ ও তার সহযোগী মোস্তাকিন। সরল বিশ্বাসে সিরাজুল ও তার মা সেই সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছিলেন।

‎ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সিরাজুল ইসলাম লভ্যাংশসহ মূল টাকা ফেরত দিতে চাইলে অভিযুক্তরা সময়ক্ষেপণ শুরু করেন। প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে যখন সিরাজুল নিজের ভিটের বাঁশঝাড় কাটতে যান। তখন মোশাহিদ মিয়া তাকে বাধা দেন এবং পুরো জায়গার মালিকানা দাবি করেন।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ঋণের কথা বলে নেওয়া সেই সাদা স্ট্যাম্প ব্যবহার করে সিরাজুল ও তার মায়ের অগোচরে ২২ শতাংশ বসতভিটা ও জমি অন্য নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। মোশাহিদ মিয়া তার নিজের নামে জমি না লিখে শ্যালক হোসাইন আহমদের (শান্তিগঞ্জ উপজেলা) নামে এবং মোস্তাকিন মিয়া তার শ্যালক মো. জায়ফর মিয়ার (দিরাই উপজেলা) নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেন।

‎ভিটেমাটি হারানোর শোকে গত চার বছর আগে মারা যান সিরাজুলের মা আয়শা বেগম। এরপর থেকে সিরাজুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশি বৈঠকের চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে বৈঠক এড়িয়ে চলেন।

‎সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের সহায়-সম্বল হারানোর দুঃখে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন সিরাজুল ইসলাম।

‎ভুক্তভোগী পরিবারের এই করুণ পরিণতিতে এরালিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা একজন দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হোক।

‎এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোশাহিদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।