১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

কলকাতা ও দিল্লিতে বাংলাদেশি দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৭১ বার পড়া হয়েছে।

‎বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে কলকাতাতে বাংলাদেশ উপদূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকরা।

সোমবার তারা বিক্ষোভ করলেও মঙ্গলবার তারা উন্মত্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাধার মুখে ব্যারিকেড ভেঙে তারা উপহাইকমিশনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

 

পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিক্ষোভকারীদের। কলকাতার বেকবাগানে বাংলাদেশের উপদূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

‎মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এভিবিপি, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক সংগঠনের ডাকে বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিযানে জড়ো হন অনেকে। মিছিল করে তারা পৌঁছান বেকবাগান এলাকায়। তবে বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সামনে পৌঁছোনোর আগেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ উপদূতাবাসে স্মারকলিপি দেয়া হবে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেকবাগান এলাকা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

‎সোমবার শিলিগুড়ির বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারের সামনেও হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ দেখায়। ভিসা সেন্টার বন্ধের দাবি জানানো হয়।

‎কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। তাদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকে চাপা উত্তেজনা ছিল দিল্লিতে। সেখানকার বাংলাদেশের হাইকমিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

‎দিল্লিতেও বাংলাদেশি দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি

‎নয়া দিল্লি পুলিশ বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করছে। নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও, প্রতিবাদকারীদেরকে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে কূটনৈতিক স্থাপনার দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। প্রতিবাদকারীরা কমপক্ষে দুটি বাধা অতিক্রম করে কূটনৈতিক ভবনের দিকে এগিয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এনডিটিভি বলছে, পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। প্রতিবাদকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ধরে দীপু চন্দ্র দাসের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। একজন প্রতিবাদকারী বলেন, আজ আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর না তুললে, আমি দীপু, আপনি দীপু হব।

‎ওদিকে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার কূটনৈতিক মিশনের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারকে ডেকেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ এই ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতা বা হুমকিকে নিন্দা জানায়, যা কেবল কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে না, বরং পারস্পরিক সম্মান ও শান্তি ও সহনশীলতার মূলনীতি লঙ্ঘন করে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ভারত সরকারকে অবশ্যই এই ঘটনার একটি বিস্তৃত তদন্ত পরিচালনা করতে হবে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

‎বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভারতের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং উভয় দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

‎এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় দেশের সরকারকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

কলকাতা ও দিল্লিতে বাংলাদেশি দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি

আপডেট সময়ঃ ০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

‎বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে কলকাতাতে বাংলাদেশ উপদূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকরা।

সোমবার তারা বিক্ষোভ করলেও মঙ্গলবার তারা উন্মত্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাধার মুখে ব্যারিকেড ভেঙে তারা উপহাইকমিশনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

 

পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিক্ষোভকারীদের। কলকাতার বেকবাগানে বাংলাদেশের উপদূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

‎মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এভিবিপি, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক সংগঠনের ডাকে বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিযানে জড়ো হন অনেকে। মিছিল করে তারা পৌঁছান বেকবাগান এলাকায়। তবে বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সামনে পৌঁছোনোর আগেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ উপদূতাবাসে স্মারকলিপি দেয়া হবে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকাতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেকবাগান এলাকা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

‎সোমবার শিলিগুড়ির বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারের সামনেও হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ দেখায়। ভিসা সেন্টার বন্ধের দাবি জানানো হয়।

‎কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। তাদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকে চাপা উত্তেজনা ছিল দিল্লিতে। সেখানকার বাংলাদেশের হাইকমিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

‎দিল্লিতেও বাংলাদেশি দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি

‎নয়া দিল্লি পুলিশ বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করছে। নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও, প্রতিবাদকারীদেরকে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে কূটনৈতিক স্থাপনার দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। প্রতিবাদকারীরা কমপক্ষে দুটি বাধা অতিক্রম করে কূটনৈতিক ভবনের দিকে এগিয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এনডিটিভি বলছে, পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। প্রতিবাদকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ধরে দীপু চন্দ্র দাসের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। একজন প্রতিবাদকারী বলেন, আজ আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর না তুললে, আমি দীপু, আপনি দীপু হব।

‎ওদিকে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার কূটনৈতিক মিশনের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারকে ডেকেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ এই ধরনের পরিকল্পিত সহিংসতা বা হুমকিকে নিন্দা জানায়, যা কেবল কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে না, বরং পারস্পরিক সম্মান ও শান্তি ও সহনশীলতার মূলনীতি লঙ্ঘন করে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ভারত সরকারকে অবশ্যই এই ঘটনার একটি বিস্তৃত তদন্ত পরিচালনা করতে হবে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

‎বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভারতের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং উভয় দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

‎এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় দেশের সরকারকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

 

 

 

তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন