অনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাতঃ
কাঠগড়ায় শান্তিগঞ্জের গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক
- আপডেট সময়ঃ ০৯:২৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মনোরঞ্জন দাশ, তিনি উপজেলার গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
একজন ভুক্তভোগী তরুণী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রলোভন, অনৈতিক সম্পর্ক এবং টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
গত শনিবার সকালে ওই তরুণী সরাসরি গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ প্রদানকালে ভুক্তভোগী তরুণী তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেন, যার একটি ভিডিও চিত্র সংবাদকর্মীদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী তরুণী উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মনোরঞ্জন দাশ মূলত শাল্লা উপজেলার সাউদেরশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে যখন ওই তরুণী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় মনোরঞ্জন দাশ তার গৃহশিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন।
তরুণীর অভিযোগ, শিক্ষকতার সেই সুযোগ এবং বিশ্বাসের অপব্যবহার করে মনোরঞ্জন দাশ তাকে নানাভাবে প্ররোচিত করেন। একপর্যায়ে আবেগের সুযোগ নিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘ ৭ থেকে ৮ বছর ধরে সেই অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের চলাকালীন শিক্ষক মনোরঞ্জন দাশ বিভিন্ন অজুহাতে ওই তরুণীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা হাওলাত (ধার) হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে বর্তমানে তরুণী তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে এবং সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতির দাবি জানালে অভিযুক্ত শিক্ষক সবকিছু অস্বীকার করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, এখন টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরের কথা, বিষয়টি নিয়ে জানাজানি করলে তাকে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মনোরঞ্জন দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “ওই তরুণী মূলত আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা এবং ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছেন। তিনি কেন আমার পেছনে লেগেছেন বা কেন এমন করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না।”
পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগের বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন।
গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তদবীর আলম জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তিনি বলেন, “একজন নারী সরাসরি বিদ্যালয়ে এসে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। আমি সাথে সাথে আমাদের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান স্যারকে বিষয়টি অবহিত করেছি। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে।”
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান ঘটনার বিষয়ে বলেন, “আমি মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে দাপ্তরিকভাবে লিখিত অভিযোগটি এখনো আমার দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। অভিযোগপত্রটি হাতে পাওয়া মাত্রই বিধি মোতাবেক তদন্ত শুরু করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।













