গোয়েন্দাদের ভয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়াল পদত্যাগ করতে পারেননি
- আপডেট সময়ঃ ০৬:১৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৫ বার পড়া হয়েছে।
২০২৪-এর নির্বাচনের আগেই তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তার একজন সহকর্মী পদত্যাগের একটি খসড়াও তৈরি করেছিলেন।
খবরটি গোয়েন্দা মারফত দ্রুতই চলে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। এরপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা হয় তার ওপর নানাভাবে। দেখানো হয় ভয়ভীতি। বলা হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না- যাতে করে জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসে।
শেষ পর্যন্ত আতঙ্কিত হাবিবুল আউয়াল পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এক পর্যায়ে তিনি বিদেশে ছুটিতে যাওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছিলেন। সেখানেও বাধা। এরপর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়। তিনি যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য বিমানবন্দরে সতর্কতাও জারি করা হয়।
অনুসন্ধান টিম বিষয়টি জানতে পেরেছে। এছাড়া হাবিবুল আউয়াল গোড়া থেকেই ডামি নির্বাচনের ব্যাপারে বিরক্ত ছিলেন। একজন সম্পাদক তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে একই মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, আমার তো ইচ্ছা পদত্যাগ করে চলে যাই। কিন্তু পদত্যাগ করা তো সহজ হবে না। সেটা আমি বুঝতে পারছি। হাবিবুল আউয়াল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৮-এর নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাও কারাগারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাবিবুল আউয়ালের পদত্যাগের ইচ্ছা এবং তার ওপর চলমান চাপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। এদিকে, নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও বিভিন্নভাবে চাপের মুখে ছিলেন। তারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হন।
নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারানোর কথা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন। তারা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তারা আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, হাবিবুল আউয়ালের কারাগারে থাকা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা তার মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কারণে কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা উচিত নয়। এই পরিস্থিতিতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
তথ্যসহায়তাঃমানবজমিন










