চাঁদাবাজির কারণে একদল ঘৃণা কুঁড়িয়েছে, আরেকদল সর্ব শক্তি নিয়ে নেমেছে : জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১০৩ বার পড়া হয়েছে।
চাঁদাবাজির কারণে একদল ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেকদল সর্ব শক্তি নিয়ে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষ এখনো সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেননি। ফ্যাসিস্টরা দেশ থেকে পালালেও ফ্যাসিজমের কালো ছায়া এখনো কাটেনি।
একদল অপকর্ম করে পালিয়েছে, আরেকদল সেই অপকর্মের দায় কাঁধে তুলে নিয়েছে। কেউ চাঁদাবাজি করে জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়েছে, আবার কেউ আরও বেশি শক্তি নিয়ে একই কাজ করছে। একদল দখলদার হয়ে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে, আর আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন দেশব্যাপী হত্যা–নির্যাতনের তাণ্ডব চালিয়েছিল, তখন সিলেটবাসী তাদের লাল কার্ড দেখিয়েছিল। পরবর্তীতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। বর্গিরা চলে যাওয়ার পরও দেশে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। কেউ দেশে–বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ বানিয়েছে, কেউ পালাতে গিয়ে খাল–বিলে লুকিয়েছে, আবার কেউ সিলেটবাসীর কাছে ধরা খেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একসময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও আলেম–ওলামাদের জেল, নির্যাতন, ফাঁসি ও দেশছাড়া করার যে প্রবণতা ছিল, তা এখনো বন্ধ হয়নি। যারা আমাদের বিভিন্ন দেশের ভয় দেখাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—আমরা কাউকে ভয় পাই না, কাউকে পাত্তাও দিই না।’
চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারাই চাঁদাবাজি করছেন, দখলবাজি করছেন, মানুষের উপর জুলম করছেন তারা এসব বন্ধ করুন। নয়তো অচিরেই আপনাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। ’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যারা এই বাংলাদেশকে জিম্মি করে রেখেছিল, আজ তারা নিজেরা নিজেদের কাছে নিরাপদ নয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ তারা নিজেরা নিজেদের খেয়ে ফেলছে। লক্ষ লক্ষ দলীয় নেতাকর্মী যুগ যুগ ধরে তাদের জীবনকে বিপন্ন করেছে জেলের মধ্যে।’
তিনি ৫দফা দাবির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, জুলাই- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান। দেশকে সুন্দর করার জন্য সংস্কার করা হবে। এই গুমকারীদের, খুনিদের, টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান বিচার হবে এবং পরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে।
কিন্তু আজকে আমরা হতোবাক! আমাদের সংস্কারে বাধা। অপরাধীদের দৃশ্যমান বিচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। একদল পাগল হয়ে গেছে, নির্বাচনকে পেছানোর জন্যে। যতই শয়তানির পরিকল্পনা করবেন ততোই আপনারা বাংলাদেশের জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।’
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান এবং মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দেশের বিভিন্ন সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা দেশের উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
তারা জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, যদি এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হয়, তাহলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাদের মতে, দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে তারা জনগণকে সচেতন হওয়ার এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তারা একটি সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চান, যেখানে সবাই সমান সুযোগ এবং অধিকার ভোগ করতে পারে।
তথ্যসহায়তাঃসিলেটভিউ24





















