ঈদের দিন, পাগনার হাওর রণক্ষেত্রঃ
জামালগঞ্জে বাঁধ কাটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১১
- আপডেট সময়ঃ ০৭:০১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পাগনার হাওরের বাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার ঈদের দিন সকালে উপজেলার কাশিপুর ও শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। উৎসবের দিনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন ও ফসলি জমি রক্ষা নিয়ে কাশিপুর ও শান্তিপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে ঈদের দিন সকালেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সকালবেলা যখন সবাই ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন কাশিপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির আলীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল শান্তিপুর গ্রামের পাশের একটি বাঁধ কাটতে যান। এতে শান্তিপুর গ্রামের কৃষকরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঈদের আনন্দ ভুলে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষে শান্তিপুর গ্রামের সামিরুল ইসলাম, রাফাত হোসেন, হানিফ মিয়া, কিসমত, বাকি বিল্লাহ, নূর মোহাম্মদ, মাসুদ ও সানোয়ার হোসেনসহ মোট আটজন আহত হন। অন্যদিকে কাশিপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন, আবুল হোসেন ও আবুল কালামও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও কাশিপুর গ্রামের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে কাশিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আমির আলী অভিযোগ করেন, অতিবৃষ্টিতে তাদের রোপণ করা ফসল তলিয়ে যাচ্ছিল, তাই নিরুপায় হয়ে তারা পানি নামাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শান্তিপুর গ্রামের লোকজন কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের ওপর হামলা চালায়।
অপরদিকে শান্তিপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেনের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী দুটি খালের বাঁধ একসাথে কাটার নির্দেশ থাকলেও কাশিপুর গ্রামের লোকজন স্বার্থপরের মতো শুধুমাত্র একটি বাঁধ কাটতে আসে। এতে শান্তিপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ জমি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তারা প্রতিবাদ করেছিলেন, যার জেরে তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে পাঠামারা খাল ও কানাইখালী নদীর দুটি বাঁধই একসাথে কাটা হবে।
কিন্তু ঈদের দিনে একপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে এককভাবে একটি বাঁধ কাটতে গেলে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, উৎসবের দিনে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জামালগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক পঙ্কজ ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।





















