ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগঃ
জামালগঞ্জ কলেজ হোস্টেলে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
- আপডেট সময়ঃ ১০:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রী হোস্টেলে ঘটে যাওয়া ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে উপজেলা।
মানবাধিকার সংগঠন ‘সুপার সিক্সটি’ আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ। আজ শুক্রবার দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ গেট প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজ পরবর্তী সময়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা উপজেলা পরিষদ গেটে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার-ফেস্টুনে সুসজ্জিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা কলেজের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সুধীজনরা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কলেজ প্রশাসনের নির্লিপ্ততাকে দায়ী করেন।
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
* সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত: ছাত্রী হোস্টেলের ঘটনায় কোনো প্রকার রাখঢাক না করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা।
* অধ্যক্ষের অপসারণ: তদন্ত চলাকালীন সময়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে এবং সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে পদ থেকে অপসারণ করা।
* নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও কলঙ্কমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কলেজ প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানচর্চার পবিত্র তীর্থস্থান। সেখানে কোনো ধরনের অনৈতিকতা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব না দেওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক এবং উদ্বেগের বিষয়।”
নেতৃবৃন্দ আরও যোগ করেন, তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে অভিযুক্তদের দায়িত্বে রেখে তদন্ত করা সম্ভব নয়। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামীতে জামালগঞ্জ উপজেলা অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সুপার সিক্সটি সংগঠনের এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন:
তোফাজ্জল ইসলাম, আব্দুস সামাদ আফিন্দী, বায়েজিদ আহমদ, এবাদুর রহমান, রাহাদ আলম হৃদয়, আবতাহিনুর খাঁন, উদয় খোকন মিয়া, লিমন, সালমান, আবু ইউসুফ নাঈমসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে বর্তমানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি।
সচেতন মহলের মতে, কলেজ হোস্টেলের এই ইস্যুটি দ্রুত সমাধান না হলে তা বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।
ছবি:ফেসবুক সংগৃহীত




















