বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) উদ্ধার
জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ: হোস্টেল সুপারসহ দুই শিক্ষক অব্যাহতি
- আপডেট সময়ঃ ১০:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কলেজ ক্যাম্পাস।
বুধবার দিনভর শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ, স্লোগান এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করেছে এবং অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর একটি দল জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। সেই সময় ছাত্রীরা হোস্টেলে ছিলেন না।
গত মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার সকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, হোস্টেল ভবনটি পরিষ্কার করার সময় সেখানে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) ও আপত্তিকর আলামত পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি মৌখিকভাবে কলেজ প্রশাসনকে অবগত করলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মঙ্গলবার রাতে এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
বুধবার বেলা ১১টায় জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে কলেজ প্রাঙ্গণে এসে অবস্থান নেয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে তাঁকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, “হোস্টেল ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই এমন অনৈতিক কাজ সংঘটিত হয়েছে। এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য চরম লজ্জার।” তারা কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপস শীল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এবং হোস্টেল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে দুই শিক্ষককে তাঁদের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন:১
১. মুজিবুর রহমান, হল সুপার।
২. পঙ্কজ বর্মণ, ইতিহাস বিভাগের প্রধান (হোস্টেল সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব)।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বলেন, “শিক্ষার্থীদের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে দুজনকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ শুরুতেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আমরা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।”
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দিলে এবং আন্দোলন স্থগিত করলে কলেজ ক্যাম্পাসে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।





















