১১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহে ভিজিএফ কার্ড নিয়ে বিএনপি ও যুবদল সমর্থকদের রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে।

ঝিনাইদহ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এই ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। 

দীর্ঘ তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে।

‎ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্থানীয় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণের জন্য কার্ড ইস্যু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে কার্ড দাবি করেন যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এই কার্ডের ভাগাভাগি নিয়ে প্রথমে দুই নেতার মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। দিনের বেলা বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকলেও ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে।

‎উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। কিন্তু সমাধান আসার পরিবর্তে শালিস চলাকালীন সময়েই সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুরো এলাকা এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শৈলকুপা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গভীর রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কয়েকজনের আঘাত বেশ গুরুতর।

 

‎শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা জানিয়েছেন, তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ করেছিল। তবে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ঝিনাইদহে ভিজিএফ কার্ড নিয়ে বিএনপি ও যুবদল সমর্থকদের রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

আপডেট সময়ঃ ০২:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এই ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। 

দীর্ঘ তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে।

‎ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্থানীয় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণের জন্য কার্ড ইস্যু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে কার্ড দাবি করেন যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এই কার্ডের ভাগাভাগি নিয়ে প্রথমে দুই নেতার মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। দিনের বেলা বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকলেও ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে।

‎উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। কিন্তু সমাধান আসার পরিবর্তে শালিস চলাকালীন সময়েই সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুরো এলাকা এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শৈলকুপা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গভীর রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কয়েকজনের আঘাত বেশ গুরুতর।

 

‎শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা জানিয়েছেন, তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ করেছিল। তবে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃচ্যানেল24