০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

‎ডিসিকে ‘ইচ্ছা করে’ বদলি করেছি: কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বিস্ফোরক বক্তব্য

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:২৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে।

ভোটের মাঠে পরাজয়ের নেপথ্যে প্রশাসনের ‘গাদ্দারি’ আর নিজ দলের কর্মীদের বিশ্বাসভাতকতাকে দায়ী করলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। 

তবে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করেছে বিদায়ী জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নিয়ে তার একটি মন্তব্য। তিনি প্রকাশ্য সভায় দাবি করেছেন, আগের ডিসিকে তারা ‘ইচ্ছা করে’ বদলি করে দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা সভায় এই বিস্ফোরক বক্তব্য দেন তিনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার একটি ভিডিওচিত্র বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।

‎বক্তব্যের শুরুতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, প্রশাসন ও তার নিজ দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু ‘গাদ্দার’ মিলে মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অথচ তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

‎সৈয়দ মেহেদী আহমেদ সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনসহ কুমারখালী ও খোকসা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বাচনের সময় ‘গাদ্দারি’ করেছেন। তার মতে, সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে তিনি অন্তত এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন। সত্য কথা বলাই তার জন্য অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

‎বক্তব্যের শেষ দিকে আগের ডিসিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, “আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভমেন্ট (সরকার) তো আমাদেরই।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও ডিসি এমন আচরণ করবেন তা তিনি আগে বুঝতে পারেননি। আগে বুঝতে পারলে শুরুতেই ব্যবস্থা নিতেন বলে হুশিয়ারি দেন।

‎নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তিনি হাল ছাড়েননি বলে জানান ৭৩ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা। ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি ইতিমধ্যে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। তিনি জানান, আদালত তার আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং আগামী ২৪ জুন এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ভোট পুনর্গণনা হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

‎কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

‎উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।

 

 

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎ডিসিকে ‘ইচ্ছা করে’ বদলি করেছি: কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বিস্ফোরক বক্তব্য

আপডেট সময়ঃ ০৬:২৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ভোটের মাঠে পরাজয়ের নেপথ্যে প্রশাসনের ‘গাদ্দারি’ আর নিজ দলের কর্মীদের বিশ্বাসভাতকতাকে দায়ী করলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। 

তবে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করেছে বিদায়ী জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নিয়ে তার একটি মন্তব্য। তিনি প্রকাশ্য সভায় দাবি করেছেন, আগের ডিসিকে তারা ‘ইচ্ছা করে’ বদলি করে দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা সভায় এই বিস্ফোরক বক্তব্য দেন তিনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার একটি ভিডিওচিত্র বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।

‎বক্তব্যের শুরুতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, প্রশাসন ও তার নিজ দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু ‘গাদ্দার’ মিলে মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অথচ তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

‎সৈয়দ মেহেদী আহমেদ সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনসহ কুমারখালী ও খোকসা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বাচনের সময় ‘গাদ্দারি’ করেছেন। তার মতে, সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে তিনি অন্তত এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন। সত্য কথা বলাই তার জন্য অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

‎বক্তব্যের শেষ দিকে আগের ডিসিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, “আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভমেন্ট (সরকার) তো আমাদেরই।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও ডিসি এমন আচরণ করবেন তা তিনি আগে বুঝতে পারেননি। আগে বুঝতে পারলে শুরুতেই ব্যবস্থা নিতেন বলে হুশিয়ারি দেন।

‎নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তিনি হাল ছাড়েননি বলে জানান ৭৩ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা। ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি ইতিমধ্যে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। তিনি জানান, আদালত তার আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং আগামী ২৪ জুন এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ভোট পুনর্গণনা হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

‎কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

‎উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।

 

 

 

 

‎তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো