০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মাদকবিরোধী লড়াই

তরুণ প্রজন্ম বাঁচাতে একাট্টা পশ্চিম তেঘরিয়া:

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের অন্যতম জনবহুল এলাকা পশ্চিম তেঘরিয়ায় মাদকের ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে অভূতপূর্ব ঐক্যের ডাক দিয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেট নির্মূল করতে রাজপথে নেমেছেন তারা।

শুক্রবার আসরের নামাজের পর পশ্চিম তেঘরিয়া মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল মতবিনিময় সভায় এলাকাবাসী ঘোষণা করেছেন— “এই মহল্লায় মাদক কারবারিদের কোনো স্থান নেই।”

 

বিপথগামী তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক উদ্বেগঃ

‎সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বৃহত্তর তেঘরিয়া এলাকার কিছু অসাধু চক্র গোপনে একটি শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এর ফলে এলাকার কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিপথগামী হচ্ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। সভার আয়োজক স্থানীয় যুবকরা দৃঢ়ভাবে জানান, গুটিকয়েক অপরাধীর দায় পুরো এলাকাবাসী নেবে না। এলাকার মর্যাদা রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতেই এই গণজাগরণ শুরু হয়েছে।

‎গৃহীত কঠোর পদক্ষেপসমূহঃ

‎মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

‎ * জিরো টলারেন্স: এলাকায় কেউ মাদক কেনা-বেচা বা সেবনের সময় ধরা পড়লে কোনো প্রকার আপস ছাড়াই সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

‎ * পারিবারিক সতর্কতা: মাদকাসক্তদের পরিবারকে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হবে, যাতে তারা নিজ উদ্যোগে সন্তানদের সংশোধনের ব্যবস্থা করেন।

‎ * কমিউনিটি নজরদারি: পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর জন্য তরুণদের সমন্বয়ে ছোট ছোট টাস্কফোর্স বা টিম গঠন করা হবে।

‎বিশিষ্টজনদের একাত্মতাঃ

‎মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম শ্যামল, লাভলু আহমেদ, জসিম উদ্দিন, সুজন আহমেদ, মো. আব্দুল্লাহ, মামুন আহমেদসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজ।

“আমরা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু তার আগে আমরা নিজেরা সতর্ক করছি—নিজেদের এবং এলাকার ভালো-মন্দ বোঝার চেষ্টা করুন। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — বক্তাদের হুঁশিয়ারি।

 

এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন দৈনিক হক বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন, “সমাজের প্রত্যেককে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। এদের পৃষ্ঠপোষকরা হচ্ছে দেশ ও জাতির শত্রু, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের আরো স্বোচ্চার হতে হবে।”

 

‎জনমনে স্বস্তিঃ

‎মাদক কারবারি ও সেবীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর এই প্রকাশ্য এবং কঠোর অবস্থানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই সামাজিক আন্দোলন সুনামগঞ্জের অন্যান্য এলাকাতেও মাদক নির্মূলে প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

মাদকবিরোধী লড়াই

তরুণ প্রজন্ম বাঁচাতে একাট্টা পশ্চিম তেঘরিয়া:

আপডেট সময়ঃ ০৮:১৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের অন্যতম জনবহুল এলাকা পশ্চিম তেঘরিয়ায় মাদকের ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে অভূতপূর্ব ঐক্যের ডাক দিয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেট নির্মূল করতে রাজপথে নেমেছেন তারা।

শুক্রবার আসরের নামাজের পর পশ্চিম তেঘরিয়া মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল মতবিনিময় সভায় এলাকাবাসী ঘোষণা করেছেন— “এই মহল্লায় মাদক কারবারিদের কোনো স্থান নেই।”

 

বিপথগামী তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক উদ্বেগঃ

‎সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বৃহত্তর তেঘরিয়া এলাকার কিছু অসাধু চক্র গোপনে একটি শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এর ফলে এলাকার কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিপথগামী হচ্ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। সভার আয়োজক স্থানীয় যুবকরা দৃঢ়ভাবে জানান, গুটিকয়েক অপরাধীর দায় পুরো এলাকাবাসী নেবে না। এলাকার মর্যাদা রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতেই এই গণজাগরণ শুরু হয়েছে।

‎গৃহীত কঠোর পদক্ষেপসমূহঃ

‎মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

‎ * জিরো টলারেন্স: এলাকায় কেউ মাদক কেনা-বেচা বা সেবনের সময় ধরা পড়লে কোনো প্রকার আপস ছাড়াই সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

‎ * পারিবারিক সতর্কতা: মাদকাসক্তদের পরিবারকে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হবে, যাতে তারা নিজ উদ্যোগে সন্তানদের সংশোধনের ব্যবস্থা করেন।

‎ * কমিউনিটি নজরদারি: পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর জন্য তরুণদের সমন্বয়ে ছোট ছোট টাস্কফোর্স বা টিম গঠন করা হবে।

‎বিশিষ্টজনদের একাত্মতাঃ

‎মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম শ্যামল, লাভলু আহমেদ, জসিম উদ্দিন, সুজন আহমেদ, মো. আব্দুল্লাহ, মামুন আহমেদসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজ।

“আমরা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু তার আগে আমরা নিজেরা সতর্ক করছি—নিজেদের এবং এলাকার ভালো-মন্দ বোঝার চেষ্টা করুন। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — বক্তাদের হুঁশিয়ারি।

 

এই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন দৈনিক হক বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন, “সমাজের প্রত্যেককে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। এদের পৃষ্ঠপোষকরা হচ্ছে দেশ ও জাতির শত্রু, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের আরো স্বোচ্চার হতে হবে।”

 

‎জনমনে স্বস্তিঃ

‎মাদক কারবারি ও সেবীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর এই প্রকাশ্য এবং কঠোর অবস্থানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই সামাজিক আন্দোলন সুনামগঞ্জের অন্যান্য এলাকাতেও মাদক নির্মূলে প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।