০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

তাহিরপুরের বালিয়াঘাট গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ– ১৫ জন আহত

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / ১৯০ বার পড়া হয়েছে।

তাহিরপুরের বালিয়াঘাট গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত এক জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অপর একজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার এই ঘটনায় দুইপক্ষই তাহিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

 

গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াঘাট নতুন বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুইদিন ধরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আমির আলী এবং একই গ্রামের উম্মর আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত শনিবার সন্ধায় বালিয়াঘাট নতুন বাজারে আমির আলী এবং উম্মর আলীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে আমির আলী ছেলে রবিন মুখে ঠেটা বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় এবং উম্মর আলীর ছোট ভাই আক্কাস আলী মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুইপক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করেন। গুরুতর আহত রবিনকে উদ্ধার করে তার পরিবারের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং আহত আক্কাস আলীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আমির আলী বলেন, তার বড় ভাই সামসু কয়লা আমদানিকারক সমিতির আওতাধীন নদীতে সেন্ট্রির দায়িত্ব পালন করেন। গত শুক্রবার সকালে উম্মর আলীর পক্ষের একজনের চোরাইপথে নিয়ে আসা একটি পাথরবাহী স্ট্রিল বডি আটক করে। এর জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ উম্মর আলীর নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা করে তার ছেলে রবিন সহ ৭ জনকে গুরুতর আহত করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন থেকে তার বাড়ির লোকজন জিম্মি অবস্থায় আছে, বাড়ি থেকে বাজার বা রাস্তা ঘাটে যেতে পারছে না।

উম্মর আলী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাদের জায়গা আমির আলী মেম্বার দখলে রেখেছেন। জায়গা ফেরত চাইলে সে ফেরত দিচ্ছে না। এ নিয়ে বিচার সালিশের আয়োজন করলেও সে বিচার মানে না। এসব বিষয় নিয়ে সে পুরো গ্রাম তুলে মা বাপ তুলে হুমকি ও গালাগাল করে থাকে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে, সে তার পক্ষের লোকজন নিয়ে তাদের উপর হামলা করে আহত করেছে।

তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বালিয়াঘাট নতুন বাজারে পূর্ব বিরোধ ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

তাহিরপুরের বালিয়াঘাট গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ– ১৫ জন আহত

আপডেট সময়ঃ ১১:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

তাহিরপুরের বালিয়াঘাট গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত এক জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অপর একজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার এই ঘটনায় দুইপক্ষই তাহিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

 

গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াঘাট নতুন বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুইদিন ধরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আমির আলী এবং একই গ্রামের উম্মর আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত শনিবার সন্ধায় বালিয়াঘাট নতুন বাজারে আমির আলী এবং উম্মর আলীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে আমির আলী ছেলে রবিন মুখে ঠেটা বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় এবং উম্মর আলীর ছোট ভাই আক্কাস আলী মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুইপক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করেন। গুরুতর আহত রবিনকে উদ্ধার করে তার পরিবারের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং আহত আক্কাস আলীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আমির আলী বলেন, তার বড় ভাই সামসু কয়লা আমদানিকারক সমিতির আওতাধীন নদীতে সেন্ট্রির দায়িত্ব পালন করেন। গত শুক্রবার সকালে উম্মর আলীর পক্ষের একজনের চোরাইপথে নিয়ে আসা একটি পাথরবাহী স্ট্রিল বডি আটক করে। এর জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ উম্মর আলীর নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা করে তার ছেলে রবিন সহ ৭ জনকে গুরুতর আহত করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন থেকে তার বাড়ির লোকজন জিম্মি অবস্থায় আছে, বাড়ি থেকে বাজার বা রাস্তা ঘাটে যেতে পারছে না।

উম্মর আলী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাদের জায়গা আমির আলী মেম্বার দখলে রেখেছেন। জায়গা ফেরত চাইলে সে ফেরত দিচ্ছে না। এ নিয়ে বিচার সালিশের আয়োজন করলেও সে বিচার মানে না। এসব বিষয় নিয়ে সে পুরো গ্রাম তুলে মা বাপ তুলে হুমকি ও গালাগাল করে থাকে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে, সে তার পক্ষের লোকজন নিয়ে তাদের উপর হামলা করে আহত করেছে।

তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বালিয়াঘাট নতুন বাজারে পূর্ব বিরোধ ও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।