০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

তাহিরপুর সীমান্তে ২৪টি শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার, নাশকতার আশঙ্কা বিজিবির

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৭৪ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪টি শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

‎বিজিবির ধারণা, দেশে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরিতে ব্যবহারের জন্য এসব বিস্ফোরক ভারত থেকে পাচার করে আনা হয়েছিল।

‎শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ চারাগাঁও বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।

‎বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চারাগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১১৯৫/১-এস এর নিকটবর্তী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘মাইজহাটি’ নামক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ গজ ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো এবং গাছের ডালপালা দিয়ে সুকৌশলে ঢেকে রাখা অবস্থায় ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

‎সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির জানান, উদ্ধারকৃত ডেটনেটরগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এগুলো ব্যবহার করে আইইডি তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

‎তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানের কারণেই এই বিপজ্জনক চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবির কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

‎উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।

‎বিজিবি আরও জানিয়েছে যে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত টহল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় জনগণকে এ ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং কোনো তথ্য পেলে তা দ্রুত বিজিবিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

‎স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে এই অঞ্চলে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এদিকে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলোর উৎস এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজিবি আশা করছে যে, এই তদন্তের মাধ্যমে চোরাচালানের পুরো চক্রকে উন্মোচিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

তাহিরপুর সীমান্তে ২৪টি শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার, নাশকতার আশঙ্কা বিজিবির

আপডেট সময়ঃ ০৮:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪টি শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

‎বিজিবির ধারণা, দেশে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরিতে ব্যবহারের জন্য এসব বিস্ফোরক ভারত থেকে পাচার করে আনা হয়েছিল।

‎শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ চারাগাঁও বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।

‎বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চারাগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১১৯৫/১-এস এর নিকটবর্তী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘মাইজহাটি’ নামক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ গজ ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো এবং গাছের ডালপালা দিয়ে সুকৌশলে ঢেকে রাখা অবস্থায় ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

‎সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির জানান, উদ্ধারকৃত ডেটনেটরগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এগুলো ব্যবহার করে আইইডি তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

‎তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানের কারণেই এই বিপজ্জনক চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবির কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

‎উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।

‎বিজিবি আরও জানিয়েছে যে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত টহল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় জনগণকে এ ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং কোনো তথ্য পেলে তা দ্রুত বিজিবিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্ত এলাকায় যে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

‎স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে এই অঞ্চলে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এদিকে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলোর উৎস এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজিবি আশা করছে যে, এই তদন্তের মাধ্যমে চোরাচালানের পুরো চক্রকে উন্মোচিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।