গভীর রাতে ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ
তুচ্ছ ছিপি ছোড়া থেকে রণক্ষেত্র কুষ্টিয়া: গুলিবিদ্ধ ৭,
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৩১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে।
একটি কোমল পানীয়র বোতলের ছিপি ছোড়াকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া এলাকায় রোববার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডব চলে রাত দেড়টা পর্যন্ত।
এই সহিংসতায় অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ক্লিপে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মহড়া দিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার সকালে অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। কয়া ইউনিয়নের রতন শেখ নামের এক ব্যক্তি কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ছিপি ছুড়ে মারেন, যা গিয়ে লাগে স্থানীয় ‘ক্যাসেট’ নামে এক ব্যক্তির মাথায়। এ নিয়ে বকাবকি শুরু হলে রতন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন।
পরে ক্যাসেটের ছেলে মামুন বিষয়টি জানতে চাইলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলামের সমর্থক আলম শেখ এসে রতনকে একটি চড় মারলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। যদিও উপস্থিত স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে সবাইকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
সকালে বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেলেও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রতন, ইয়ারুল শেখ ও নাসের উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা পিস্তল ও শটগান ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। এতে বিএনপি নেতা রাশিদুলের সমর্থক রাব্বি, আজম শেখ, ওবাইদুল্লাহ, জনি শেখ, শারুফ শেখ, জাহাঙ্গীর আলম ও শফিউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাব্বি নামের এক যুবকের বুকে গুলি লাগায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
দিনভর সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ ইয়ারুলের সমর্থক রতন শেখের বাড়িতে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা রতনের বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। তবে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি নেতা রাশিদুলের পক্ষের দাবি, গুলিবিদ্ধ রাব্বির অবস্থা আশঙ্কাজনক শুনে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রতন নিজেই ঘরে আগুন লাগিয়ে পালিয়েছেন। অন্যদিকে রতনের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, হামলার পর থেকেই ভয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পলাতক ছিলেন, তাই আগুন কীভাবে লেগেছে তা তারা জানেন না।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, পানীয়র ছিপি ছোড়া কেবল একটি তাৎক্ষণিক কারণ মাত্র। মূলত পদ্মা নদীতে মাছ ধরা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদা আদায় এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মী ও জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ইয়ারুল শেখ পদ্মা নদীতে পুলিশ হত্যা মামলার প্রধান আসামি বলেও জানা গেছে। দীর্ঘদিনের এই চাপা ক্ষোভই তুচ্ছ ঘটনার উসকানিতে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেড় কালোয়া ও রাধাগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। অভিযুক্ত ইয়ারুল, সোহেল ও নাসেরের বাড়ির দরজায় তালা ঝুলছে, পরিবারের সবাই গা-ঢাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা না পড়লেও পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো





















