মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা
তেহরানে রক্তক্ষয়ী হামলা: খামেনির প্রয়াণে স্তব্ধ বিশ্ব, পুতিনের হুঙ্কারঃ
- আপডেট সময়ঃ ১০:০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সাক্ষী হলো বিশ্ব।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে রাশিয়া।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই হত্যাকাণ্ডকে “অসভ্য ও বর্বরোচিত” আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের এই চরম মূল্য বিশ্বকে দিতে হতে পারে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় চালানো এই নিখুঁত ও ভয়াবহ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে ইরান জুড়ে শোকের ছায়া নামলেও রাজপথ এখন প্রতিশোধের মিছিলে উত্তাল।
পুতিনের কড়া বার্তা: “রাশিয়া এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো”
ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় পুতিন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ অথচ কঠোর ভাষায় খামেনির মৃত্যুতে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “আয়াতুল্লাহ খামেনি কেবল ইরানের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার অন্যতম কারিগর। রাশিয়া-ইরান কৌশলগত সম্পর্ককে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় হয়ে থাকবে।”
পুতিন স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে টার্গেট করা কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি সরাসরি “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ”। তিনি বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে এই “উন্মাদনা” বন্ধের আহ্বান জানান এবং ইরানের প্রতি রাশিয়ার পূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ইঙ্গিত দেন।
শনিবারের এই হামলায় কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং তেহরানের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতেঃ
* স্কুলছাত্রীদের মৃত্যু: তেহরানের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত দুটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে শতাধিক স্কুলছাত্রী নিহত হয়। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার সৃষ্টি করেছে।
* বেসামরিক হতাহত: আবাসিক ভবনগুলোতে হামলার ফলে শিশু ও নারীসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
* অবকাঠামো ধ্বংস: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে সাইবার হামলার পাশাপাশি এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তেহরানের পাল্টা আঘাত: রণক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যঃ
খামেনির মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান তাদের “রেড লাইন” অতিক্রমের ঘোষণা দেয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এবং ইসরায়েলের হাইফা ও তেল আবিব অভিমুখে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক জরুরি ভাষণে বলেছেন, “শত্রুরা মনে করেছে নেতাকে হত্যা করে আমাদের থামিয়ে দেবে, কিন্তু তারা আসলে আগ্নেয়গিরির মুখ খুলে দিয়েছে।” তেহরান এখন সরাসরি হোয়াইট হাউস ও তেল আবিবকে এই হামলার জন্য দায়ী করে “চরম প্রতিশোধের” অঙ্গীকার করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ শঙ্কাঃ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করলেও, এটি আঞ্চলিক প্রতিরোধ যোদ্ধাদের (Axis of Resistance) আরও ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। রাশিয়ার সরাসরি সমর্থন এবং চীনের নীরব পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংকট কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমত্যেই আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও পশ্চিমা দেশগুলো এই হামলার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তবে আরব বিশ্বের অনেক দেশ এই হত্যাকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তথ্যসহায়তাঃজনকন্ঠ










