নেপথ্যে বড় গ্যাম্বলিং সিন্ডিকেটঃ
দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার আস্তানায় পুলিশের হানা: মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৫০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ৯ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রযুক্তির আড়ালে গড়ে ওঠা ভয়াবহ এক অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে দিরাই পৌর শহরের আরামবাগ আবাসিক এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে চক্রের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিজিটাল এই অপরাধের জাল কতটুকু বিস্তৃত, তা অনুসন্ধানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বেশ কিছুদিন ধরেই দিরাই থানা পুলিশের কাছে খবর আসছিল যে, শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে নামিদামি স্মার্টফোন ব্যবহার করে একটি চক্র গোপনে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দিরাই থানা পুলিশের একটি চৌকস দল আরামবাগ আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানের লক্ষ্য ছিল ওই এলাকার মো. মাহবুব হোসেন হিমেলের বাসা। পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে হিমেলের বাসার ছাদের চিলেকোঠায় হানা দেয়। সেখানে তখন পুরোদমে চলছিল অনলাইন জুয়ার আসর।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসর থেকে কয়েকজন সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, হাতেনাতে ধরা পড়েন চক্রের মূলহোতা হিমেল ও তার সহযোগী হাসান। তল্লাশিকালে তাদের হেফাজত থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত ১৭টি দামী স্মার্টফোন জব্দ করা হয়, যা এই অপরাধের ব্যাপকতার প্রমাণ দেয়।
কারা এই পর্দার পেছনের কারিগর?
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, মূলহোতা মো. মাহবুব হোসেন হিমেল (২৬) উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামের মৃত মতলিব মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েলের ছোট ভাই। তার সাথে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যজন হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে হাসান মিয়া (২৪)।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হিমেল দীর্ঘদিন ধরে দিরাই পৌর শহরসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করে এই নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছিলেন। স্মার্টফোন অ্যাপ ও বিভিন্ন সাইট ব্যবহার করে তারা সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে তরুণদের এই সর্বনাশা নেশায় প্রলুব্ধ করত।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “অনলাইন জুয়া বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে আমাদের এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে বিপথগামী হচ্ছে। অনেকে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এই চক্রটিকে নির্মূল করতে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালিয়ে আসছিলাম।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক বাকি সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
শনিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের সুনামগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত ১৭টি স্মার্টফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দিয়ে এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করা যাবে।
জনস্বার্থে এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত বিরতিতে চলবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।











