নেপথ্যে সাকিব ভক্তদের তান্ডবঃ
দুদক কার্যালয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
- আপডেট সময়ঃ ১০:৪০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে আজ এক অনভিপ্রেত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
একদল ব্যক্তি, যারা নিজেদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের ভক্ত বলে দাবি করছেন, তারা সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে একপ্রকার ‘অবরুদ্ধ’ করে ফেলেছিলেন সংস্থাটির কর্মকর্তাদের।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় ২০-৩০ জনের একটি দল অতর্কিতভাবে মিছিল নিয়ে দুদকের ফটকের সামনে জড়ো হয়।
তারা ‘সাকিব আল হাসানের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার’ এবং ‘আসিফ মাহমুদের বিচার’ চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা নিরাপত্তা কর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন।
দুদকের ভেতরে অবস্থানকালে তারা কর্মকর্তাদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সম্বলিত একটি লিখিত আবেদন গ্রহণ করতে বাধ্য করেন।
দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একদল উশৃঙ্খল জনতা কার্যালয়ের ভেতরে স্লোগান দিয়ে এক ধরণের ভীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে এবং কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা ভাঙচুর এড়াতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই অভিযোগটি গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন: “আমাদের কাজ একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় চলে। কিন্তু আজ যেভাবে ২০-৩০ জন লোক এসে আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ তৈরি করে একটি বেনামি অভিযোগ দিতে বাধ্য করল, তা দাপ্তরিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। আমরা চাপের মুখে সেটি রিসিভ করেছি ঠিকই, কিন্তু এর কোনো আইনি ভিত্তি এখনও তৈরি হয়নি।”
দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দাখিল করা অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নামে নয়, বরং বেনামে দাখিল করা হয়েছে। সাধারণত বেনামি অভিযোগের ক্ষেত্রে দুদক অত্যন্ত সতর্ক থাকে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
* প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ: অভিযোগটি বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের (Screening) জন্য রাখা হয়েছে।
* তথ্য-উপাত্ত যাচাই: অভিযোগ জমা পড়লেই তা সরাসরি মামলা বা তদন্তে যায় না। আইন অনুযায়ী অভিযোগটি প্রথমে ‘সেল’ এ পাঠানো হবে। সেখানে যদি কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ বা তথ্য-উপাত্তের মিল পাওয়া যায়, তবেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
* বাতিলের সম্ভাবনা: যদি অভিযোগটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রামাণিক তথ্যবিহীন হয়, তবে তা সরাসরি বাতিল করা হবে।
দুদক কার্যালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এভাবে ‘মব’ বা গণ-জমায়েত করে কর্মকর্তাদের কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, বিচারিক বা তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হস্তক্ষেপ প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস।
বিকেলের দিকে দুদক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের ‘মব জাস্টিস’ বা অযাচিত হস্তক্ষেপের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তথ্যসহায়তাঃকালেরকন্ঠ




















