দেশের নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ-বদলির দায়িত্বে থাকবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৯৬ বার পড়া হয়েছে।
নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ, বদলি, অন্যান্য বিষয় এবং আদালতের কন্ট্রোল ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের হাতে ন্যাস্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে। পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এটা আমাদের বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের সুপারিশে ছিল। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সকল দল এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের একটি পৃথক সচিবালয় লাগবে।
পৃথক সচিবালয়ের নীতিগত আইনের একটি অনুমোদন এরআগে উপদেষ্টা পরিষদের মিটিংয়ে করেছিলাম। আজকের বৈঠকে এটা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
আসিফ নজরুল বলেন, কন্ট্রোল বলতে-নিম্ন আদালতে বিচারকদের পদায়ণ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত বিষয়াদি, ছুটি সংক্রান্ত বিষয়াদি, নিম্ন আদালতে বিচারকদের নিয়োগ, কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ- সমস্ত কিছু সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় করবে। আইন মন্ত্রণালয় যেটা করতো সেটা সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়ের হাতে চলে যাবে।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বিচার কার্যে নিয়োজিত যারা রয়েছেন। তাদের কন্ট্রোল, ছুটি সংক্রান্ত বিষয়াদি সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়ের হাতে চলে যাবে। বিচার বিভাগে অন্য যারা আছেন। তারা কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেন।
নির্বাচন কমিশন, দুদক, জুডিশিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, আইন কমিশন এই ধরণের প্রতিষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা, নিম্ন আদালতে বিচারকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
নিম্ন আদালতে বিচারকরা যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তাদের কাজের শৃঙ্খলা, ছুটির বিষয়াদি এটা আইন মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকবে। শুধুমাত্র নিম্ন আদালতের বিচারকরা যারা আছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ, কন্ট্রোল , শৃঙ্খলা , ছুটি জনিত বিষয়াদি উচ্চ আদালতে হাতে চলে যাবে। উচ্চ আদালত তার সচিবালয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। এটা করার বড় কারণ-বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার প্রচণ্ডভাবে দেখেছি নিম্ন আদালতে যারা বিচারক ছিলেন। তাদেরকে আইন মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল করতো। আইন মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছায় নিম্ন আদালতের বিচারকরা জামিন দেবেন কি দেবেন না এমন সিদ্ধান্ত নিতেন। এমন অভিযোগ আমরা শুনতাম, দেখতাম। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর। এই অবস্থার অবসান ঘটবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে বিচার বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন স্বাধীনভাবে, যা বিচার প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এর ফলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া, বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিচারকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে, যা তাদের পেশাগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তথ্য সহায়তাঃমানবজমিন





















