মনুষ্যত্বের দোকানে’ বাজারের আগুনে বিবেকের জল ঢালছেন রাহী
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে স্বস্তি: ‘মনুষ্যত্বের ন্যায্য মূল্যের দোকানে’ উপচে পড়া ভিড়
- আপডেট সময়ঃ ১০:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে।
বাজারে যখন নিত্যপণ্যের দামের ‘আগুন’ সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে, তখন এক ভিন্নধর্মী দৃশ্য চোখে পড়ে ‘মনুষ্যত্বের ন্যায্য মূল্যের দোকানে’।
দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, সচ্ছল একদল মানুষ হয়তো উৎসবের আমেজে কেনাকাটা করছেন। কিন্তু কাছে গেলেই উন্মোচিত হয় এক অন্যরকম মানবিক বাস্তবতা। এটি কোনো বিলাসবহুল সুপারশপ নয়, বরং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের বেঁচে থাকার এক অনন্য আশ্রয়স্থল।
বর্তমানে যখন বাজারে শসা, বেগুন কিংবা পেঁয়াজের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন এই ‘মনুষ্যত্বের দোকানে’ পণ্য বিক্রি হচ্ছে দেশের সর্বনিম্ন দামে। যেখানে বাজারের অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকটের দোহাই দিয়ে মুনাফা লুটছে, সেখানে এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
ভরা বাজারে যখন প্রতিটি পণ্যের গায়ে অগ্নিমূল্যের ট্যাগ, সাধারণ মানুষ যখন ব্যাগে সামান্য সবজি নিতেও হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে ‘মনুষ্যত্বের ন্যায্য মূল্যের দোকান’। তবে এই অবিশ্বাস্য কম দামের পেছনে কোনো জাদুর কাঠি নেই, আছে এক দেশপ্রেমিক প্রবাসীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মানবিক উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি আমেরিকা প্রবাসী তরুণ রাহী। বিদেশের মাটিতে থেকেও দেশের মানুষের কষ্ট তাকে ব্যথিত করেছে।
বাজারের সিন্ডিকেট যখন সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, তখন তিনি নিজের কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে পণ্যের মূল্যে বিশাল অংকের ভর্তুকি প্রদান করছেন। মূলত তার দেওয়া এই আর্থিক সহায়তার কারণেই সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে এখানে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।
দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়ানো এক ক্রেতার ভাষ্যমতে, “বাজারে গেলে পকেট খালি হয়ে যায়, কিন্তু এখানে এলে অন্তত পরিবারের মুখে দুবেলা ডাল-ভাত তুলে দেওয়ার ভরসা পাই। এখানে দাম কম হওয়ার কারণ কোনো ভর্তুকি নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছা।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের সাধারণ দামের তুলনায় এখানে প্রতিটি পণ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। দাম কম হলেও পণ্যের মানে কোনো আপস করা হচ্ছে না।
উদ্যোক্তারা বলছেন, এই মানুষের ভিড় কেবল সাশ্রয়ের জন্য নয়, বরং এটি বর্তমান বাজার ব্যবস্থার প্রতি এক নীরব প্রতিবাদ। যখন সাধারণ মানুষ বাজারের আগুনে পুড়ছে, তখন কিছু তরুণ ও উদ্যমী মানুষের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সারা দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য এই দোকানটি এখন একটি কড়া চপেটাঘাত। রাহীর এই মহৎ উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা থাকলে একক প্রচেষ্টাতেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
দোকানের স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, রাহীর মতো আরও অনেকে যদি এভাবে এগিয়ে আসতেন, তবে দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা অনেক সহজ হতো।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি এ ধরনের ন্যায্য মূল্যের বিপণন ব্যবস্থা পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে দেওয়া যেত, তবে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতো।
‘মনুষ্যত্বের ন্যায্য মূল্যের দোকান’ আজ কেবল একটি দোকান নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জন্য এক টুকরো স্বস্তির নাম।










