ধোপখালী গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডে তোলপাড়: রিমান্ডে স্বামী, পলাতক শ্বশুর-শাশুড়িকে ধরতে পুলিশের চিরুনি অভিযান
- আপডেট সময়ঃ ১০:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৬ বার পড়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ধোপাখালীতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় শ্বশুর ও শ্বাশুরিকে আটক করতে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ।
আটক স্বামীকেও রিমাণ্ডে নেবার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গেল বুধবার সন্ধ্যা রাতে ওই গৃহবধুর আত্মহত্যার ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিনই স্বামী কিশাল শেখর দাশকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত স্বামীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেবার আবেদন করা হয়েছে।
গৃহবধু সুমী দাস চৌধুরীর (২১) মৃত্যুর পর মা বাবলী রানী চৌধুরী স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুরিকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওইদিনই স্বামী কিশাল শেখর দাশ (২৪) হকে আটক করেছে।
মাত্র ৭ মাস আগে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দত্তগ্রামের ধনরঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে সুমী দাশ চৌধুরী (২১) কে বিয়ে করে কুলেন্দু শেখর দাশের ছেলে কিশাল শেখর দাশ (২৪)।
নিহতের মা বাবলী রানী চৌধুরী মামলায় উল্লেখ করেছেন, দুই মাস আগে মেয়েকে মারধর করলে সে বাবার বাড়ী হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দত্তগ্রামে চলে যায়। পরবর্তীতে মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে দ্রুত নবীগঞ্জের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় তাকে। পরবর্তীতে দেড় মাস পূর্বে কিশাল শেখর দাসের মা-বাবা গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসে।
গত ৭ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টায় কিশালের মা রীপা দাস মোবাইল ফোনে জানান, ‘আমার মেয়ে সুমি দাশ চৌধুরী মারা গেছে এবং তার লাশ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আছে।
সংবাদ পেয়ে, আমার ছেলে, দেবর জ্যা সহ আরোও আত্মীয়-স্বজন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাত ৮ টা দশ মিনিটে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের গলা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমযুক্ত নিথর দেহ। আমার মেয়ের এমন নিমর্ম মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সদোত্তর না দিয়ে কৌশলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন ।’
মামলায় দাবি করা হয় ৭ জানুয়ারি বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ধোপাখালীতে স্বামীর বাড়িতে গলা টিপে শ্বাস রোধ করে মেয়েকে (সুমি দাশ চৌধুরী কে) হত্যা করা হয়। কিশালের বাবা কুলেন্দু শেখর দাশ মোহনা টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কথা বলা যায় নি।
নিহত সুমির ভাই মিঠুন চৌধুরীও একজন গণমাধ্যমকর্মী (যমুনা টিভির হবিগঞ্জ প্রতিনিধির সহকারী)। একমাত্র বোনের এমন মৃত্যুতে পরিবারটি বাকরুদ্ধ। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আজ রোববার নবীগঞ্জের সাংবাদিকরা মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
কুলেন্দুর ফোন বন্ধ থাকায় ভাই শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
সুমি দাশ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এই ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলছেন এবং সঠিক তদন্তের দাবি করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মামলার তদন্তে অগ্রগতি আনতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিচ্ছে।
এদিকে, সুমি চৌধুরীর পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন যে, দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুমির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং তারা এই ঘটনার সঠিক বিচার চান।





















