০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

নাকে হাত দিয়ে সবাই চলে গেলেও, খবর পেয়ে পাগলীর লাশ উদ্ধারে এগিয়ে আসে ওসি রতন শেখ পিপিএম

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯২ বার পড়া হয়েছে।

‎সুনামগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় পড়ে থাকা এক অজ্ঞাত পরিচয়ের বৃদ্ধা নারীর মরদেহ ঘিরে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল অবহেলা ও অনীহা, তখন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করে এগিয়ে আসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় এক বৃদ্ধা নারীকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহটি দেখে অনেকেই নাকে হাত দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

‎পরে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক বিষয়টি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় অবহিত করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

‎অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ পিপিএম-এর নেতৃত্বে, এসআই নুরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর নুরুজ্জামানসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা।

‎এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ পিপিএম বলেন, একজন মানুষ জীবিত থাকুক বা মৃত অবস্থায় থাকুক, তার মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো মানুষ অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকলে পুলিশ কখনো দায় এড়াতে পারে না। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আইনানুগ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মরদেহ উদ্ধারের ব্যবস্থা নিয়েছি।

‎পুলিশ জানায়, নিহত নারী হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তার বয়স আনুমানিক ৬০ বছরের বেশি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ওই ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনযাপন করতেন এবং ফুটপাতেই তার বসবাস ছিল। দীর্ঘদিন এলাকায় অবস্থান করলেও তার নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

‎মরদেহ উদ্ধারের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় শনাক্তে সিআইডি ও পিবিআই পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

‎এই ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ওসি রতন শেখ পিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশের দ্রুত ও পেশাদার উদ্যোগ মানবিক দায়িত্ব পালনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

‎স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলের মধ্যে পুলিশের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ পুলিশ সদস্যরা তাদের পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনার পর, অনেকেই পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের মানবিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসা করেছেন।

‎এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোও এই ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করেছে এবং অজ্ঞাত বৃদ্ধা নারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তারা সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং সকলের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

‎পুলিশের এই উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সমাজের অসহায় মানুষদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। সুনামগঞ্জের এই ঘটনা সমাজে মানবিকতার চর্চা বৃদ্ধির একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নাকে হাত দিয়ে সবাই চলে গেলেও, খবর পেয়ে পাগলীর লাশ উদ্ধারে এগিয়ে আসে ওসি রতন শেখ পিপিএম

আপডেট সময়ঃ ১১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

‎সুনামগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় পড়ে থাকা এক অজ্ঞাত পরিচয়ের বৃদ্ধা নারীর মরদেহ ঘিরে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল অবহেলা ও অনীহা, তখন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করে এগিয়ে আসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় এক বৃদ্ধা নারীকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহটি দেখে অনেকেই নাকে হাত দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

‎পরে একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক বিষয়টি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় অবহিত করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

‎অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ পিপিএম-এর নেতৃত্বে, এসআই নুরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর নুরুজ্জামানসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা।

‎এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ পিপিএম বলেন, একজন মানুষ জীবিত থাকুক বা মৃত অবস্থায় থাকুক, তার মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো মানুষ অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকলে পুলিশ কখনো দায় এড়াতে পারে না। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আইনানুগ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মরদেহ উদ্ধারের ব্যবস্থা নিয়েছি।

‎পুলিশ জানায়, নিহত নারী হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তার বয়স আনুমানিক ৬০ বছরের বেশি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ওই ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনযাপন করতেন এবং ফুটপাতেই তার বসবাস ছিল। দীর্ঘদিন এলাকায় অবস্থান করলেও তার নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

‎মরদেহ উদ্ধারের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় শনাক্তে সিআইডি ও পিবিআই পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

‎এই ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ওসি রতন শেখ পিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশের দ্রুত ও পেশাদার উদ্যোগ মানবিক দায়িত্ব পালনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

‎স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলের মধ্যে পুলিশের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ পুলিশ সদস্যরা তাদের পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনার পর, অনেকেই পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের মানবিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসা করেছেন।

‎এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোও এই ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করেছে এবং অজ্ঞাত বৃদ্ধা নারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তারা সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং সকলের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

‎পুলিশের এই উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সমাজের অসহায় মানুষদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। সুনামগঞ্জের এই ঘটনা সমাজে মানবিকতার চর্চা বৃদ্ধির একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।