নেপালে শুটিংয়ে থাকাকালীন মিরপুরে ট্র্যাজেডিঃ
নাট্য অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯ বার পড়া হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় ছোটপর্দার জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার (২৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্বজনরা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে ‘পরিকল্পিত আত্মহত্যা’ বলে ধারণা করা হলেও, মৃত্যুর পেছনে কোনো নেপথ্য কারণ বা মানসিক চাপ কাজ করেছিল কি না, তা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ডিওএইচএসের ওই ফ্ল্যাটে ইকরা পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন। শনিবার সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় এবং বারবার ডাকার পরও সাড়া না মেলায় স্বজনদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। দুপুর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে ফ্যানের সাথে ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় পল্লবী থানা পুলিশ। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান গণমাধ্যমকে বলেন: “আমরা খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে টিম পাঠিয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এটি আত্মহত্যা। তবে আমরা ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ইকরার ব্যক্তিগত কক্ষ থেকে প্রাপ্ত আলামতগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করছি।”
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, দাম্পত্য জীবনে কোনো কলহ ছিল কি না বা গত কয়েকদিনে ইকরার আচরণে কোনো পরিবর্তন এসেছিল কি না, সে বিষয়েও আত্মীয়-স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় অভিনেতা জাহের আলভী দেশে ছিলেন না। পেশাগত কাজে একটি নাটকের শুটিং ইউনিটের সাথে তিনি বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান।
শুটিং সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, খবরটি পাওয়ার পর থেকেই আলভী বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা ফেরার টিকিট নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
তরুণ এই অভিনেতার স্ত্রীর মৃত্যুতে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি নিছক আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো জটিল সমীকরণ রয়েছে।
তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো










