০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে বিএনপি দাঁতভাঙা জবাব দেবে: মির্জা ফখরুল, যশোরের স্মরণ সভায়

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯৮ বার পড়া হয়েছে।

‎বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা অনেক সহ্য করেছি। বিএনপি রাজপথে ভেসে আসা কোন রাজনৈতিক দল নয়। এদেশের মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আমরা মা, মাটি ও মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। ফলে আমাদের ফেলনা মনে করলে ভুল করবেন। ভালোয় ভালোয় নির্বাচন দিন। তা নাহলে নির্বাচন বানচালের কোন ষড়যন্ত্র করা হলে তার পরিণাম ভালো হবে না। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে নির্বাচন বানচালের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে বিএনপি প্রস্তুত আছে।

‎তিনি বর্তমান প্রফেসর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থিতিশীল করার চেষ্টার পরিণাম ভালো হবে না। একটি দল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ঘোলা করার চেষ্টা করছে। যার পরিণাম কখনো ভালো হবে না। আজ এই শোকাহত পরিবেশে আমরা আপনাদের বলতে চাই, এই সরকার যদি ব্যর্থ হয় তাহলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। এই সরকারকে বিএনপিসহ দেশের প্রগতিশীল ও স্বৈরাচারবিরোধী মুভমেন্ট করা সকল রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপকভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছি। তাই এই অন্তর্বর্তী সরকারকে বলবো, দ্রুত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে তার যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে আপনাদের বিদায় হোক সেটা বিএনপি চায় না। কিন্তু যদি নির্বাচন নিয়ে কোন টালবাহানা করেন তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। বিএনপি জানে কিভাবে নির্বাচন আদায় করতে হয়। তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকীর স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

‎স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু । জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রকৌশলী টিএস আইয়ুব, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, আবুল হোসেন আজাদ, অমলেন্দু দাস অপু, হাসান জহির, তানিয়া রহমান, জহুরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল মান্নান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান আকরাম প্রমুখ।

‎স্মরণ সভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর জেলার সকল থানা বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

‎মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কোন গণভোট নয়। এটা হলে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তিনি ড. ইউনূস সরকারকে অবিলম্বে গণতন্ত্রের দিকে ফিরে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। গণতন্ত্রকে আর হরণ করবেন না, জনগণের অধিকারকে নষ্ট করবেন না। বিএনপি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্বাসী। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক দল অসৎ উদ্দেশ্যে একটি গোলযোগ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে জনগণ তাদেরকে ক্ষমা করবে না। প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে পারে বলেও তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

‎বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজীবন সংগ্রামী কিংবদন্তিতুল্য নেতা মরহুম তরিকুল ইসলাম আজন্ম মা,মাটি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। আজীবন তিনি যশোরের উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। কখনো কোন অন্যায় অনিয়মের সাথে আপোষ করেননি। শত অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও তিনি আদর্শের প্রতি ছিলেন অবিচল। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের পতনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলেন কিন্তু আজ সেই স্বৈরামুক্ত বাংলাদেশে তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেননি। আজকের বাংলাদেশে তার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। তিনি সারা জীবন আপনাদের জন্য, যশোর তথা দেশের দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছেন। পরিশেষে বিএনপি মহাসচিব মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং যশোরের ৫টি সংসদীয় আসনের প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্ত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

‎সুত্রঃমানবজমিন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে বিএনপি দাঁতভাঙা জবাব দেবে: মির্জা ফখরুল, যশোরের স্মরণ সভায়

আপডেট সময়ঃ ০৯:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

‎বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা অনেক সহ্য করেছি। বিএনপি রাজপথে ভেসে আসা কোন রাজনৈতিক দল নয়। এদেশের মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আমরা মা, মাটি ও মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। ফলে আমাদের ফেলনা মনে করলে ভুল করবেন। ভালোয় ভালোয় নির্বাচন দিন। তা নাহলে নির্বাচন বানচালের কোন ষড়যন্ত্র করা হলে তার পরিণাম ভালো হবে না। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে নির্বাচন বানচালের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে বিএনপি প্রস্তুত আছে।

‎তিনি বর্তমান প্রফেসর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থিতিশীল করার চেষ্টার পরিণাম ভালো হবে না। একটি দল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ঘোলা করার চেষ্টা করছে। যার পরিণাম কখনো ভালো হবে না। আজ এই শোকাহত পরিবেশে আমরা আপনাদের বলতে চাই, এই সরকার যদি ব্যর্থ হয় তাহলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। এই সরকারকে বিএনপিসহ দেশের প্রগতিশীল ও স্বৈরাচারবিরোধী মুভমেন্ট করা সকল রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপকভাবে সহায়তা প্রদান করে আসছি। তাই এই অন্তর্বর্তী সরকারকে বলবো, দ্রুত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে তার যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে আপনাদের বিদায় হোক সেটা বিএনপি চায় না। কিন্তু যদি নির্বাচন নিয়ে কোন টালবাহানা করেন তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। বিএনপি জানে কিভাবে নির্বাচন আদায় করতে হয়। তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকীর স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

‎স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু । জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রকৌশলী টিএস আইয়ুব, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, আবুল হোসেন আজাদ, অমলেন্দু দাস অপু, হাসান জহির, তানিয়া রহমান, জহুরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল মান্নান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান আকরাম প্রমুখ।

‎স্মরণ সভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর জেলার সকল থানা বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

‎মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, নির্বাচনের আগে কোন গণভোট নয়। এটা হলে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তিনি ড. ইউনূস সরকারকে অবিলম্বে গণতন্ত্রের দিকে ফিরে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। গণতন্ত্রকে আর হরণ করবেন না, জনগণের অধিকারকে নষ্ট করবেন না। বিএনপি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্বাসী। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক দল অসৎ উদ্দেশ্যে একটি গোলযোগ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে জনগণ তাদেরকে ক্ষমা করবে না। প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে পারে বলেও তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

‎বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজীবন সংগ্রামী কিংবদন্তিতুল্য নেতা মরহুম তরিকুল ইসলাম আজন্ম মা,মাটি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। আজীবন তিনি যশোরের উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। কখনো কোন অন্যায় অনিয়মের সাথে আপোষ করেননি। শত অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও তিনি আদর্শের প্রতি ছিলেন অবিচল। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের পতনের জন্য তিনি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলেন কিন্তু আজ সেই স্বৈরামুক্ত বাংলাদেশে তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ দেখে যেতে পারেননি। আজকের বাংলাদেশে তার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। তিনি সারা জীবন আপনাদের জন্য, যশোর তথা দেশের দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছেন। পরিশেষে বিএনপি মহাসচিব মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং যশোরের ৫টি সংসদীয় আসনের প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্ত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

‎সুত্রঃমানবজমিন