০২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রাণ গেল গৃহবধূরঃ

পাবনায় আধিপত্যের লড়াইয়ে সুজানগরে বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

পাবনার সুজানগরে স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে দুই গ্রুপের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়। আধিপত্যের এই লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন চায়না খাতুন (৪০) নামের এক নিরপরাধ গৃহবধূ। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মূলত এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা এবং মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিকের অনুসারীদের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে চরম অস্থিরতা চলছিল।

এই বিরোধের জের ধরে গত রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি হয়। রাতের সেই সংঘাতকে কেন্দ্র করে এলাকাটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং সোমবার সকালে তা পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

‎সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই রাজা গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অতর্কিত এই হামলায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করলে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলিবর্ষণের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গৃহবধূ চায়না খাতুন।

‎হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলাম প্রামাণিক বলেন, তার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে রাজা গ্রুপের লোকজন তাকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করলেও উল্টো তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

ইসলাম প্রামাণিক আরও দাবি করেন, সোমবার সকালে গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাজার নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়, যার ফলে মর্মান্তিকভাবে একজন প্রাণ হারান।

‎এই সংঘর্ষে কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

‎বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পরবর্তী সহিংসতা রোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘাতকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তথ্যসহায়তাঃবাংলাভিশন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রাণ গেল গৃহবধূরঃ

পাবনায় আধিপত্যের লড়াইয়ে সুজানগরে বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

পাবনার সুজানগরে স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে দুই গ্রুপের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়। আধিপত্যের এই লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন চায়না খাতুন (৪০) নামের এক নিরপরাধ গৃহবধূ। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মূলত এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা এবং মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিকের অনুসারীদের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে চরম অস্থিরতা চলছিল।

এই বিরোধের জের ধরে গত রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি হয়। রাতের সেই সংঘাতকে কেন্দ্র করে এলাকাটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং সোমবার সকালে তা পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

‎সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই রাজা গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অতর্কিত এই হামলায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করলে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলিবর্ষণের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গৃহবধূ চায়না খাতুন।

‎হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলাম প্রামাণিক বলেন, তার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে রাজা গ্রুপের লোকজন তাকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করলেও উল্টো তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

ইসলাম প্রামাণিক আরও দাবি করেন, সোমবার সকালে গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাজার নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়, যার ফলে মর্মান্তিকভাবে একজন প্রাণ হারান।

‎এই সংঘর্ষে কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

‎বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পরবর্তী সহিংসতা রোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘাতকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তথ্যসহায়তাঃবাংলাভিশন