০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
হাইকোর্টের রায়ঃ

পুরো রমজান মাস ছুটি থাকছে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে।

২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চলা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় ঘোষণা করেন। 

‎আদালতের এই আদেশের ফলে সরকারি ও বেসরকারি সকল মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরো রমজান মাস বন্ধ থাকবে।

 

 

আদালতের নির্দেশনা সমূহঃ

‎* বন্ধের সময়সীমা: আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান মাস স্কুলগুলোতে ছুটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎* পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিথিলতা: আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, এই ছুটির মধ্যে যদি কোনো পাবলিক পরীক্ষা নির্ধারিত থাকে, তবে তা এই আদেশের আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীরা যথাসময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

‎* রুল জারি: মাদ্রাসার জন্য এক নিয়ম আর মাধ্যমিক স্কুলের জন্য অন্য নিয়ম—এই বৈষম্যকে কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে। শিক্ষা সচিব ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবসহ ছয়জন বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে হবে।

‎সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনে তিনি বেশ কিছু যৌক্তিক বিষয় তুলে ধরেন:

‎* ধর্মীয় বৈষম্য: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে রমজানের প্রথম ১৮ দিন মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার কথা বলা হয়েছিল। অথচ মাদ্রাসাগুলোতে পুরো মাস ছুটির সিদ্ধান্ত ছিল। একই শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে এই পার্থক্যকে রিটকারী আইনজীবী ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে দাবি করেন।

‎* শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ: রোজা রেখে দীর্ঘ সময় ক্লাসে অংশ নেওয়া এবং যাতায়াত করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর। এটি তাদের রোজা রাখার অভ্যাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

‎* ট্রাফিক জ্যাম ও জনদুর্ভোগ: রমজানে বড় শহরগুলোতে স্কুল ছুটির সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। স্কুল বন্ধ থাকলে নগরবাসী এই চরম দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবেন।

‎এই রিট আবেদনটি মূলত মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ছিল। তাই হাইকোর্টের এই নির্দিষ্ট আদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকের ক্লাসগুলো আপাতত চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি না সরকার পরবর্তীতে কোনো নতুন পরিপত্র জারি করে।

 

 

সুত্রঃবিডিনিউজ24

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

হাইকোর্টের রায়ঃ

পুরো রমজান মাস ছুটি থাকছে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চলা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় ঘোষণা করেন। 

‎আদালতের এই আদেশের ফলে সরকারি ও বেসরকারি সকল মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুরো রমজান মাস বন্ধ থাকবে।

 

 

আদালতের নির্দেশনা সমূহঃ

‎* বন্ধের সময়সীমা: আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান মাস স্কুলগুলোতে ছুটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎* পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিথিলতা: আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, এই ছুটির মধ্যে যদি কোনো পাবলিক পরীক্ষা নির্ধারিত থাকে, তবে তা এই আদেশের আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীরা যথাসময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

‎* রুল জারি: মাদ্রাসার জন্য এক নিয়ম আর মাধ্যমিক স্কুলের জন্য অন্য নিয়ম—এই বৈষম্যকে কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে। শিক্ষা সচিব ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবসহ ছয়জন বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে হবে।

‎সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনে তিনি বেশ কিছু যৌক্তিক বিষয় তুলে ধরেন:

‎* ধর্মীয় বৈষম্য: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে রমজানের প্রথম ১৮ দিন মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার কথা বলা হয়েছিল। অথচ মাদ্রাসাগুলোতে পুরো মাস ছুটির সিদ্ধান্ত ছিল। একই শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে এই পার্থক্যকে রিটকারী আইনজীবী ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে দাবি করেন।

‎* শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ: রোজা রেখে দীর্ঘ সময় ক্লাসে অংশ নেওয়া এবং যাতায়াত করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর। এটি তাদের রোজা রাখার অভ্যাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

‎* ট্রাফিক জ্যাম ও জনদুর্ভোগ: রমজানে বড় শহরগুলোতে স্কুল ছুটির সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। স্কুল বন্ধ থাকলে নগরবাসী এই চরম দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবেন।

‎এই রিট আবেদনটি মূলত মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ছিল। তাই হাইকোর্টের এই নির্দিষ্ট আদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকের ক্লাসগুলো আপাতত চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি না সরকার পরবর্তীতে কোনো নতুন পরিপত্র জারি করে।

 

 

সুত্রঃবিডিনিউজ24