০৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
জেলা প্রশাসনের ঈদ উপহারে স্বস্তিতে হাজারো মানুষ

পূর্ব ইব্রাহীমপুর‎ খেয়াঘাটে ৪৫ বছরের অপেক্ষার অবসান:

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন পূর্ব ইব্রাহীমপুর খেয়াঘাটে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যাত্রী ভোগান্তির অবসান ঘটল। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে যেখানে অবৈধ স্থাপনার দাপট ছিল, সেখানে এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনি। 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগমুহূর্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে।

 

‎বুধবার সকালে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্মিত এই আধুনিক যাত্রী ছাউনি ও ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অবকাঠামোটিকে এলাকাবাসীর জন্য ‘ঈদের বিশেষ উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

‎এই প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন জানান, গত বছরের ৮ মার্চ পূর্ব ইব্রাহীমপুরবাসী খেয়াঘাটে একটি যাত্রী ছাউনির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন।

জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে এই আধুনিক যাত্রী ছাউনি ও ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে।

 

‎এই নতুন স্থাপনার ফলে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এতদিন রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে খেয়া পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হতো সাধারণ মানুষকে।

বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীদের জন্য এই ভোগান্তি ছিল অসহনীয়। এখন থেকে আধুনিক এই ছাউনিতে বসে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন।

 

‎উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “আমরা আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অল্প সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আগে এখানে বসার কোনো জায়গা না থাকায় মানুষ চরম কষ্টে যাতায়াত করত, এখন তারা অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাবেন।”

তবে এই অর্জনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক স্থানীয়দের প্রতি কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই সম্পদ জনগণের এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের। ঘাট এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্থানীয়দের সচেতন থাকার এবং ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

 

‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অসীম চন্দ্র বনিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম কয়েসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ী সমাজ।

‎অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

 

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

জেলা প্রশাসনের ঈদ উপহারে স্বস্তিতে হাজারো মানুষ

পূর্ব ইব্রাহীমপুর‎ খেয়াঘাটে ৪৫ বছরের অপেক্ষার অবসান:

আপডেট সময়ঃ ০২:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন পূর্ব ইব্রাহীমপুর খেয়াঘাটে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যাত্রী ভোগান্তির অবসান ঘটল। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে যেখানে অবৈধ স্থাপনার দাপট ছিল, সেখানে এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনি। 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগমুহূর্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে।

 

‎বুধবার সকালে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্মিত এই আধুনিক যাত্রী ছাউনি ও ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অবকাঠামোটিকে এলাকাবাসীর জন্য ‘ঈদের বিশেষ উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

‎এই প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন জানান, গত বছরের ৮ মার্চ পূর্ব ইব্রাহীমপুরবাসী খেয়াঘাটে একটি যাত্রী ছাউনির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন।

জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে এই আধুনিক যাত্রী ছাউনি ও ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে।

 

‎এই নতুন স্থাপনার ফলে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এতদিন রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে খেয়া পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হতো সাধারণ মানুষকে।

বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীদের জন্য এই ভোগান্তি ছিল অসহনীয়। এখন থেকে আধুনিক এই ছাউনিতে বসে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন।

 

‎উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “আমরা আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অল্প সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আগে এখানে বসার কোনো জায়গা না থাকায় মানুষ চরম কষ্টে যাতায়াত করত, এখন তারা অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাবেন।”

তবে এই অর্জনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক স্থানীয়দের প্রতি কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই সম্পদ জনগণের এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের। ঘাট এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্থানীয়দের সচেতন থাকার এবং ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

 

‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অসীম চন্দ্র বনিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম কয়েসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ী সমাজ।

‎অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।