০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়ানোর বিকল্প নেইঃ

‎বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি: চট্টগ্রামে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে।

‎দেশের বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে করের আওতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ছাড়া টেকসই কর্মসংস্থান সম্ভব নয়, আর কর্মসংস্থানই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য

‎শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত একটি সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ভূমি পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীজনদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎মন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে হলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বা ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়ানোর বিকল্প নেই। কর আদায়ের মাধ্যমে যে মূলধন সংগৃহীত হবে, তা সরাসরি জনকল্যাণমূলক বিনিয়োগে ব্যয় করা হবে।”

 

‎তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন বাজেটে তিনটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:

‎১. শিক্ষা: মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি।

‎২. স্বাস্থ্য: তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

‎৩. কর্মসংস্থান: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ।

 

‎মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “বিনিয়োগ না হলে শিল্পায়ন হবে না, আর শিল্পায়ন ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা অসম্ভব। তাই সরকার দেশি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

‎পতেঙ্গায় স্বাস্থ্য খাতের মেগা প্রকল্পঃ

‎চট্টগ্রাম মহানগরীর স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বিস্তারে পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া ও মুসলিমাবাদ এলাকায় একটি অত্যাধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী এদিন বিকেল ৩টায় প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

‎মন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল-২ এর পশ্চিম পার্শ্বে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমিগুলো দেখেন। মোট দুটি খণ্ডে যথাক্রমে ১৪.২১৯০ একর এবং ২.৭ একর জমি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। বিশাল এই ভূখণ্ডে হাসপাতালটি নির্মিত হলে এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে।

 

‎পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে প্রকল্পের কারিগরি ও ভৌগোলিক দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। তিনি জমির অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পার্শ্ববর্তী অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রী প্রস্তাবিত হাসপাতালের নকশা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

‎এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: অধিনায়ক, বানৌজা উল্কা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা এবং সদস্য সরফরাজ কাদের রাসেল।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, পতেঙ্গা ও এর পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম মহানগরীর মূল কেন্দ্রগুলোতে রোগীদের চাপ কমবে এবং জরুরি প্রয়োজনে মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

‎তথ্যসহায়তাঃকালেরকন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়ানোর বিকল্প নেইঃ

‎বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি: চট্টগ্রামে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ১১:১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎দেশের বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে করের আওতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ছাড়া টেকসই কর্মসংস্থান সম্ভব নয়, আর কর্মসংস্থানই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য

‎শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত একটি সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত ভূমি পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীজনদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎মন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে হলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বা ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়ানোর বিকল্প নেই। কর আদায়ের মাধ্যমে যে মূলধন সংগৃহীত হবে, তা সরাসরি জনকল্যাণমূলক বিনিয়োগে ব্যয় করা হবে।”

 

‎তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন বাজেটে তিনটি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:

‎১. শিক্ষা: মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি।

‎২. স্বাস্থ্য: তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

‎৩. কর্মসংস্থান: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ।

 

‎মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “বিনিয়োগ না হলে শিল্পায়ন হবে না, আর শিল্পায়ন ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা অসম্ভব। তাই সরকার দেশি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

‎পতেঙ্গায় স্বাস্থ্য খাতের মেগা প্রকল্পঃ

‎চট্টগ্রাম মহানগরীর স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বিস্তারে পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া ও মুসলিমাবাদ এলাকায় একটি অত্যাধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী এদিন বিকেল ৩টায় প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

‎মন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল-২ এর পশ্চিম পার্শ্বে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমিগুলো দেখেন। মোট দুটি খণ্ডে যথাক্রমে ১৪.২১৯০ একর এবং ২.৭ একর জমি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। বিশাল এই ভূখণ্ডে হাসপাতালটি নির্মিত হলে এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে।

 

‎পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে প্রকল্পের কারিগরি ও ভৌগোলিক দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। তিনি জমির অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পার্শ্ববর্তী অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রী প্রস্তাবিত হাসপাতালের নকশা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

‎এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: অধিনায়ক, বানৌজা উল্কা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা এবং সদস্য সরফরাজ কাদের রাসেল।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, পতেঙ্গা ও এর পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম মহানগরীর মূল কেন্দ্রগুলোতে রোগীদের চাপ কমবে এবং জরুরি প্রয়োজনে মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

‎তথ্যসহায়তাঃকালেরকন্ঠ