বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশের ক্রিকেটাঙ্গন, কাল থেকে খেলা বন্ধের হুমকি
- আপডেট সময়ঃ ১২:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯০ বার পড়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের ক্রিকেট।
আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’।
আজ বুধবার রাতে জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম দেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বেলা একটায় বিপিএলের ম্যাচের আগে নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারত সফর নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার প্রেক্ষিতে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাজমুল ইসলাম।
ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: “ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি!”
এর আগেও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ফেসবুকে ‘ভারতীয় দালাল’ সম্বোধন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই পরিচালক।
আজ বিকেলে পুনরায় তিনি মন্তব্য করেন, “বোর্ডটাই যদি না থাকে, তাহলে ক্রিকেট মানে ক্রিকেটাররা থাকবে কি না!”
কোয়াবের কঠোর অবস্থানঃ
ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার প্রতিবাদে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, “একজন পরিচালকের ভাষাগতভাবে আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল। তিনি যেভাবে ক্রিকেটারদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন, তা পুরো ক্রিকেটাঙ্গনকে ব্যথিত করেছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
মিঠুন আরও যোগ করেন, “আগামীকাল বেলা একটার মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করব। কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে না।”
বিসিবির দুঃখ প্রকাশঃ
পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে ক্রিকেটারদের আলটিমেটামের আগেই একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিসিবি। সেখানে বলা হয়, কোনো পরিচালকের ব্যক্তিগত মন্তব্য বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বোর্ড। তবে কোয়াব সরাসরি পদত্যাগের দাবিতেই অনড় রয়েছে।
বিপিএলের সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তাঃ
ঘোষণা অনুযায়ী কাল দুপুর ১টায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের দিনের খেলা শুরু হওয়ার কথা। সন্ধ্যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি হওয়ার কথা সিলেট টাইটানসের। যদি শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে বিপিএলের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
বিসিবি এবং কোয়াবের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি সংকটময় মুহূর্ত তৈরি করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন, কীভাবে এই পরিস্থিতির সমাধান হবে। এমন অবস্থায় ক্রিকেটারদের মনোবল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের বিতর্ক ক্রিকেটারদের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে, যা তাদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, বিসিবি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং ক্রিকেটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে। তারা ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনায় বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্বকারী কোয়াবও তাদের দাবিতে অটল থাকলেও, আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার আশা করছে সবাই।
এই সংকটের মধ্যে, ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে এবং দেশের ক্রিকেট আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। ক্রিকেটারদের এবং বোর্ডের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সবাইকে আরও সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।





















