ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সস্ত্রীক আটক : ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আপডেট সময়ঃ ০৬:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৫ বার পড়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন শনিবার জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা এবং এর নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বৃহৎ মাত্রার হামলা পরিচালনা করেছে। মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশ থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ অভিযানটি মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে।’
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে তিনি বড়দিন ও নববর্ষ উপলক্ষে দুই সপ্তাহের ছুটি কাটাচ্ছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই অভিযানের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘অনেক ভালো পরিকল্পনা এবং অনেক মহান সৈন্য ও মানুষ এতে যুক্ত ছিলেন।’
বামপন্থী নেতা মাদুরো ও তার দেশের তেল রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর কয়েক মাস ধরে ক্রমবর্ধমান মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পর ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা আসে।
ডিসেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, মাদুরোর জন্য পদত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার এই নেতার দিন ফুরিয়ে এসেছে।
মাদুরো আটক হওয়ার দাবি আসে এমন এক সময়, যখন মাত্র দুই দিন আগে মাদুরো ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন দমনে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এই পদক্ষেপের নিন্দা বা সমর্থন জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। লাতিন আমেরিকার অনেক দেশই এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। বিশেষ করে, ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষিতে এই ঘটনা আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠেছে। মাদুরোর সমর্থকরা এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে এবং তারা এই পদক্ষেপকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ এই ঘটনাকে মাদুরোর শাসনের অবসানের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে এবং তারা নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে যাতে এই সংকটের সমাধান করা যায়। অনেকেই আশা করছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে।
তথ্যসহায়তাঃবাসস











