০৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎মব জাস্টিস ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন দিকনির্দেশনা

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে।

‎দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনতার বিচারের সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, এখন থেকে আর কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।

‎বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন।

‎১. ‘মব কালচার’ রুখতে কঠোর হুঙ্কারঃ

‎সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে হুটহাট জনতা জড়ো হয়ে বিচার বা অবরোধ তৈরির ঘটনাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দাবি-দাওয়া আদায়ের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করা বা রাজপথ বন্ধ করে জনজীবন স্থবির করে দেওয়ার নাম অধিকার আদায় নয়।

তিনি আরও যোগ করেন, মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার যেকোনো উস্কানিমূলক তৎপরতা দমনে সরকার সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রদর্শন করবে।

‎২. পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কার ও শুদ্ধি অভিযানঃ

‎পুলিশের প্রতি জনগণের হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ‎তিনি বলেন:-

‎ * সংস্কারের রূপরেখা: পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাঠামোগত সংস্কার শুরু হবে।

‎ * জনবান্ধব পুলিশিং: থানাকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি আস্থার জায়গায় পরিণত করা হবে, যেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে সেবা নিতে পারবেন।

‎ * ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা: বাহিনীর কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিংবা অপরাধে জড়ায়, তবে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ভার নিতে হবে। অপরাধী সদস্যকে রক্ষা করার কোনো সংস্কৃতি আর থাকবে না।

‎৩. সচিবালয় থেকে দুর্নীতি দূর করার চ্যালেঞ্জঃ

‎স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, দালালি বা অবৈধ তদবিরের কোনো স্থান এখানে হবে না। “তদবিরের পেছনে না ছুটে কর্মকর্তাদের মেধা ও সততার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক বিদায় নিতে হবে,” বলে তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।

‎৪. সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাঃ

‎জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যারা মব তৈরির চেষ্টা করে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে

 

‎সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের নিস্ক্রিয়তা কাটিয়ে কর্মোদ্যম ফেরানো এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রাজপথ সচল রাখার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎মব জাস্টিস ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন দিকনির্দেশনা

আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনতার বিচারের সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, এখন থেকে আর কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।

‎বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন।

‎১. ‘মব কালচার’ রুখতে কঠোর হুঙ্কারঃ

‎সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে হুটহাট জনতা জড়ো হয়ে বিচার বা অবরোধ তৈরির ঘটনাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দাবি-দাওয়া আদায়ের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করা বা রাজপথ বন্ধ করে জনজীবন স্থবির করে দেওয়ার নাম অধিকার আদায় নয়।

তিনি আরও যোগ করেন, মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার যেকোনো উস্কানিমূলক তৎপরতা দমনে সরকার সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রদর্শন করবে।

‎২. পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কার ও শুদ্ধি অভিযানঃ

‎পুলিশের প্রতি জনগণের হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ‎তিনি বলেন:-

‎ * সংস্কারের রূপরেখা: পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাঠামোগত সংস্কার শুরু হবে।

‎ * জনবান্ধব পুলিশিং: থানাকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি আস্থার জায়গায় পরিণত করা হবে, যেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে সেবা নিতে পারবেন।

‎ * ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা: বাহিনীর কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিংবা অপরাধে জড়ায়, তবে তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ভার নিতে হবে। অপরাধী সদস্যকে রক্ষা করার কোনো সংস্কৃতি আর থাকবে না।

‎৩. সচিবালয় থেকে দুর্নীতি দূর করার চ্যালেঞ্জঃ

‎স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, দালালি বা অবৈধ তদবিরের কোনো স্থান এখানে হবে না। “তদবিরের পেছনে না ছুটে কর্মকর্তাদের মেধা ও সততার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক বিদায় নিতে হবে,” বলে তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।

‎৪. সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাঃ

‎জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যারা মব তৈরির চেষ্টা করে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে

 

‎সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের নিস্ক্রিয়তা কাটিয়ে কর্মোদ্যম ফেরানো এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রাজপথ সচল রাখার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।