১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যঃ

‎মাধ্যমিক নবীন শিক্ষকদের ৫৬ দিনের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করল সরকার

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২ বার পড়া হয়েছে।

‎দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে এবং শ্রেণিকক্ষে আধুনিক ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। 

এখন থেকে মাধ্যমিক স্তরের ৪০ বছরের কম বয়সী নবীন শিক্ষকদের জন্য ৫৬ দিনব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। 

গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।

‎মাউশির আদেশে বলা হয়েছে, একবিংশ শতাব্দীর শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষা ও আধুনিক শিখন-তত্ত্বের প্রয়োগ ব্যতিরেকে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা বিকাশ সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা স্থায়ীভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

‎‘লেইস’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমঃ

‎এই বিশাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

‎ * সময়সীমা: এই বিশেষ প্রকল্পটি অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত এর মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎ * বাস্তবায়নকারী সংস্থা: দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের (টিটিসি) মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ সরাসরি পরিচালিত হচ্ছে।

‎প্রশিক্ষণের মৌলিক উদ্দেশ্য ও এসডিজি সংযোগঃ

‎প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই প্রশিক্ষণের তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে:

‎ * শিখন ত্বরান্বিত করা: শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবষয় সহজবোধ্য করা এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

‎ * ঝরে পড়ার হার কমানো: আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখা।

‎ * পেশাগত উন্নয়ন: শিক্ষকদের আধুনিক টিচিং মেথডোলজি বা শিখন-কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া।

‎উল্লেখ্য, এই উদ্যোগটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG-4) বা সবার জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

‎প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের অনীহায় মাউশির কঠোর অবস্থানঃ

‎মাউশি লক্ষ্য করেছে যে, ইতিপূর্বে দুটি নিয়মিত ও একটি পাইলট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হলেও মাঠ পর্যায়ে কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান তাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ছাড়পত্র দিতে গড়িমসি করছেন। আবার কিছু শিক্ষক ৫৬ দিনের এই দীর্ঘ সময়ে নিজ কর্মস্থল থেকে দূরে থাকতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

‎মাউশির কঠোর বার্তাঃ

‎অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অনিবার্য কোনো কারণ বা দাপ্তরিক জটিলতা ছাড়া মনোনীত প্রতিটি শিক্ষককে এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি শিক্ষকদের ছাড়পত্র দিতে বাধা দেন, তবে তা সরকারি আদেশের অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।

মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎শিক্ষাবিদদের মতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল ও ডিজিটাল কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের এই ধরনের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ একটি মাইলফলক। ৫৬ দিনের এই নিবিড় সেশন একজন নবীন শিক্ষককে দক্ষ মেন্টর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সারা দেশের কোটি শিক্ষার্থীর ওপর।

‎তথ্যসহায়তাঃজাগোনিউজ24

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যঃ

‎মাধ্যমিক নবীন শিক্ষকদের ৫৬ দিনের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করল সরকার

আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে এবং শ্রেণিকক্ষে আধুনিক ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। 

এখন থেকে মাধ্যমিক স্তরের ৪০ বছরের কম বয়সী নবীন শিক্ষকদের জন্য ৫৬ দিনব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। 

গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।

‎মাউশির আদেশে বলা হয়েছে, একবিংশ শতাব্দীর শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষা ও আধুনিক শিখন-তত্ত্বের প্রয়োগ ব্যতিরেকে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা বিকাশ সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা স্থায়ীভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

‎‘লেইস’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমঃ

‎এই বিশাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

‎ * সময়সীমা: এই বিশেষ প্রকল্পটি অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত এর মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎ * বাস্তবায়নকারী সংস্থা: দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের (টিটিসি) মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ সরাসরি পরিচালিত হচ্ছে।

‎প্রশিক্ষণের মৌলিক উদ্দেশ্য ও এসডিজি সংযোগঃ

‎প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই প্রশিক্ষণের তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে:

‎ * শিখন ত্বরান্বিত করা: শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবষয় সহজবোধ্য করা এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

‎ * ঝরে পড়ার হার কমানো: আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখা।

‎ * পেশাগত উন্নয়ন: শিক্ষকদের আধুনিক টিচিং মেথডোলজি বা শিখন-কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া।

‎উল্লেখ্য, এই উদ্যোগটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG-4) বা সবার জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

‎প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের অনীহায় মাউশির কঠোর অবস্থানঃ

‎মাউশি লক্ষ্য করেছে যে, ইতিপূর্বে দুটি নিয়মিত ও একটি পাইলট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হলেও মাঠ পর্যায়ে কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান তাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ছাড়পত্র দিতে গড়িমসি করছেন। আবার কিছু শিক্ষক ৫৬ দিনের এই দীর্ঘ সময়ে নিজ কর্মস্থল থেকে দূরে থাকতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

‎মাউশির কঠোর বার্তাঃ

‎অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অনিবার্য কোনো কারণ বা দাপ্তরিক জটিলতা ছাড়া মনোনীত প্রতিটি শিক্ষককে এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি শিক্ষকদের ছাড়পত্র দিতে বাধা দেন, তবে তা সরকারি আদেশের অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।

মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎শিক্ষাবিদদের মতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল ও ডিজিটাল কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের এই ধরনের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ একটি মাইলফলক। ৫৬ দিনের এই নিবিড় সেশন একজন নবীন শিক্ষককে দক্ষ মেন্টর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সারা দেশের কোটি শিক্ষার্থীর ওপর।

‎তথ্যসহায়তাঃজাগোনিউজ24