০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

রাতের আঁধারে ধোপাজানের সেই পুরাতন চক্রের বালু পাচার

স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে।

রাতের আঁধারে ধোপাজানের বালু পাচার, পুলিশের চেকপোস্টের ১০০ গজের সামনেই বসুন্ধরা মাঠের মাঝখানে নতুন পথে বালু পাচার। সাংবাদিকদের উপস্তিতি টের পেয়ে ট্রাক রেখে চালক পলাতক।

‎যে নদীর বালু লুটকে কেন্দ্র করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন প্রত্যাহার হয়েছেন। কিছুদিন নদীপথে বালু লুট বন্ধ থাকলেও সেই চক্রের সদস্যরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে সড়ক পথে জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে বালু।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে বালাকান্দা, জিনারপুরসহ ৪ থেকে ৫ গ্রামের মানুষ। পরে সেই বালু তারা ট্রাকভর্তি করে জেলার নানা স্থানে বিক্রি করছে। পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফোনে করলে তিনি রিসিভ করেন নি।

‎নদীপথের বালু সড়ক পথে লুট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন তথ্য নিশ্চিত করতে বুধবার (২৪ এপ্রিল ) রাত ৩ টায় পৌর শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর এক প্রান্তের অন্ধকারে অবস্থান নেন প্রতিবেদক। রাত যখন ৩টা ২০ মিনিট তখন এক এক করে আব্দুজ জহুর সেতুর পাশে বসুন্ধরা এলাকার মাঠের মাঝকানে পুলিশের চেকপোস্ট এর একটু সামনে দিকে অবৈধ বালুভর্তি ট্রাক লাইট বন্ধ করে আসতে শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর, প্রতিবেদক সেখানে উপস্থিত হতেই সেখানে দায়িত্বে থাকা চেকপোস্ট এর পুলিশ সদস্যরা দোকানের বারান্দা থেকে রাস্তার সামনে আসেন। ফলে ক্যামেরা তাদের দিকে ঘোরাতেই তারা জানান, ট্রাকগুলো লাইট বন্ধ করে যাচ্ছে তাই আমরা দেখি নাই। চেকপোস্ট এর বাইরে আমদের যাওয়ার সুযোগ নেই, স্যাররা আমাদের চেকপোস্ট পরিবর্তন করে ব্রিজ এর মুখে বসাক তাহলে আমরা মাঠের রাস্তাটাও চেক দিতে পারবো।

‎সেখানে পুলিশের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা বালু লুটের এক সিন্ডিকেট সদস্য তখন সাংবাদিকদের দেখে দৌড়ে পালান। চেকপোস্ট অতিক্রম করতে না পারা ৫ টি ট্রাক রাধানগর পয়েন্ট এ বিভিন্ন গল্লির ভিতরে ট্রাক ব্রেক করে চালক পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহল পুলিশ এসে ৫ টি ট্রাক জব্দ করে।

‎অভিযোগ রয়েছে, বালু সিন্ডিকেট চক্রটি জেলার সদর থানা ও বিশ্বম্ভরপুর থানাকে ম্যানেজ করেই ট্রাকভর্তি বালু নিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার রাতেও প্রায় ২০-২৫টির মতো ট্রাক দিয়ে ধোপাজান চলতি নদীর বালু লুট করা হয়েছে।

‎তবে এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান দৈনিক হক বার্তা-কে বলেন,আমি সিসি টিভি চেক করেছি,বালুর ট্রাক আমার চেকপোস্ট দিয়ে যায় নাই।

‎তবে চালবন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট থাকাকালীন কীভাবে বালুভর্তি গাড়ি বের হয় সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার পুলিশ সদস্য এর সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

‎সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম দৈনিক হক বার্তা-কে জানান, আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি, দায়িত্বে যে আছে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

রাতের আঁধারে ধোপাজানের সেই পুরাতন চক্রের বালু পাচার

আপডেট সময়ঃ ০২:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

রাতের আঁধারে ধোপাজানের বালু পাচার, পুলিশের চেকপোস্টের ১০০ গজের সামনেই বসুন্ধরা মাঠের মাঝখানে নতুন পথে বালু পাচার। সাংবাদিকদের উপস্তিতি টের পেয়ে ট্রাক রেখে চালক পলাতক।

‎যে নদীর বালু লুটকে কেন্দ্র করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন প্রত্যাহার হয়েছেন। কিছুদিন নদীপথে বালু লুট বন্ধ থাকলেও সেই চক্রের সদস্যরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে সড়ক পথে জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে বালু।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে বালাকান্দা, জিনারপুরসহ ৪ থেকে ৫ গ্রামের মানুষ। পরে সেই বালু তারা ট্রাকভর্তি করে জেলার নানা স্থানে বিক্রি করছে। পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফোনে করলে তিনি রিসিভ করেন নি।

‎নদীপথের বালু সড়ক পথে লুট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন তথ্য নিশ্চিত করতে বুধবার (২৪ এপ্রিল ) রাত ৩ টায় পৌর শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর এক প্রান্তের অন্ধকারে অবস্থান নেন প্রতিবেদক। রাত যখন ৩টা ২০ মিনিট তখন এক এক করে আব্দুজ জহুর সেতুর পাশে বসুন্ধরা এলাকার মাঠের মাঝকানে পুলিশের চেকপোস্ট এর একটু সামনে দিকে অবৈধ বালুভর্তি ট্রাক লাইট বন্ধ করে আসতে শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর, প্রতিবেদক সেখানে উপস্থিত হতেই সেখানে দায়িত্বে থাকা চেকপোস্ট এর পুলিশ সদস্যরা দোকানের বারান্দা থেকে রাস্তার সামনে আসেন। ফলে ক্যামেরা তাদের দিকে ঘোরাতেই তারা জানান, ট্রাকগুলো লাইট বন্ধ করে যাচ্ছে তাই আমরা দেখি নাই। চেকপোস্ট এর বাইরে আমদের যাওয়ার সুযোগ নেই, স্যাররা আমাদের চেকপোস্ট পরিবর্তন করে ব্রিজ এর মুখে বসাক তাহলে আমরা মাঠের রাস্তাটাও চেক দিতে পারবো।

‎সেখানে পুলিশের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা বালু লুটের এক সিন্ডিকেট সদস্য তখন সাংবাদিকদের দেখে দৌড়ে পালান। চেকপোস্ট অতিক্রম করতে না পারা ৫ টি ট্রাক রাধানগর পয়েন্ট এ বিভিন্ন গল্লির ভিতরে ট্রাক ব্রেক করে চালক পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহল পুলিশ এসে ৫ টি ট্রাক জব্দ করে।

‎অভিযোগ রয়েছে, বালু সিন্ডিকেট চক্রটি জেলার সদর থানা ও বিশ্বম্ভরপুর থানাকে ম্যানেজ করেই ট্রাকভর্তি বালু নিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার রাতেও প্রায় ২০-২৫টির মতো ট্রাক দিয়ে ধোপাজান চলতি নদীর বালু লুট করা হয়েছে।

‎তবে এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান দৈনিক হক বার্তা-কে বলেন,আমি সিসি টিভি চেক করেছি,বালুর ট্রাক আমার চেকপোস্ট দিয়ে যায় নাই।

‎তবে চালবন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট থাকাকালীন কীভাবে বালুভর্তি গাড়ি বের হয় সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার পুলিশ সদস্য এর সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

‎সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম দৈনিক হক বার্তা-কে জানান, আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি, দায়িত্বে যে আছে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।