রিক্সাচালক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে, ব্যাটারি চালিত রিক্সা নিয়ে গেলো ছিনতাইকারীরা
- আপডেট সময়ঃ ০২:৩৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬১ বার পড়া হয়েছে।
ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চালক ঝনিক দাস (১৪)। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে শহরের পশ্চিম হাজীপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
ঝনিক দাস শহরের বাঁধনপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকে। সে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের জিতেন দাসের ছেলে। ছিনতাইকারীরা ঝনিকের দিনের রোজগারের ৭০০ টাকা ও অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
জানা যায়, দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে দুইজন যাত্রী নিয়ে পশ্চিম হাজীপাড়ায় যান ঝনিক। সেখানে যাওয়ার পর অটোরিক্সার যাত্রীরা বাড়ি থেকে একটি বস্তা নিয়ে এসে আবারও আলফাত স্কয়ারে যাবে বলে অপেক্ষা করতে বলে। কিছুক্ষণ পর ওই যাত্রীরা ছুরি দেখিয়ে ঝনিকের সঙ্গে থাকা সব টাকা দিতে বলে। ভয়ে ঝনিক তার উপার্জিত টাকা দিয়ে দেয় এবং বলে আমার কাছে যা আছে সব নিয়ে যাও, আমাকে মেরো না। ছিনতাইকারীরা এরপরও বলে, আর কিছু আছে নি.? ঝনিকের ‘না’ শোনার পর ছিনতাইকারীরা ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পাশের দোকানের এক ব্যক্তি আহত ঝনিককে দেখে শহরের বাঁধনপাড়ায় তার বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশী মিলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ঝনিক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের জিতেন দাস ও আরতী দাসের ছেলে। দুই ভাই, বাবা ও মা নিয়ে তাদের সংসার। বড় ভাই যীশু দাস রিক্সা চালাক ও মা বিভিন্ন বাড়িতে গৃহ সহায়িকার কাজ করেন।
ঝনিকের বড় ভাই যীশু দাস বলেন, গলায় গুরুতর আঘাতের কারণে ঝনিকের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আমাদের সাথে কারও কোনো শত্রুতা নেই এবং এলাকায় নতুন হওয়ায় কাউকে চিনতো না ঝনিক।
প্রতিবেশী দীপক চক্রবর্তী ও প্রতিমা চক্রবর্তী বলেন, সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে স্যালাইন ও অক্সিজেন দেওয়া হয়। গলায় গুরুতর আঘাতের কারণে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে, ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিল না ঝনিক। পরিবারটি দরিদ্র, চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এসময় ঝনিকের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সকলকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এরা।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, ঘটনাটি পুলিশ কে মৌখিক জানানো হয়েছে। মামলা হয় নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের এই ঘটনায় স্থানীয়রা বেশ উদ্বিগ্ন। অনেকেই মনে করছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এলাকার মানুষজন ঝনিকের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে এবং তার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহে উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। ঝনিকের পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী যে তার চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
এদিকে, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ঝনিকের পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকাবাসী সবাই আশা করছে যে দ্রুতই অপরাধীরা ধরা পড়বে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















