রোজায় স্কুল বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে খুশির খবর পেল শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময়ঃ ১০:২৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে।
রোজার মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, আইনি লড়াই এবং জনমনে তৈরি হওয়া নাটকীয়তার অবসান হলো।
পবিত্র রমজান মাসের পুরোটা সময় দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে আগের সরকারের নেওয়া রমজানে ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্তটি বাতিল করল নবগঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
২০২৬ সালের পূর্বঘোষিত শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান চলার কথা ছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই জনআকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল নতুন সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বুধবার সন্ধ্যায় সংশোধিত ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি প্রকাশ করে। অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহানা শারমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের সুবিধার্থে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও পুরো রমজান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইনি লড়াই ও চূড়ান্ত নির্দেশনাঃ
উল্লেখ্য যে, রমজান মাসে স্কুল খোলা রাখা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার ‘ছুটির বৈষম্য’ নিরসনের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন।
হাইকোর্ট পুরো রমজান স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ দিলেও শিক্ষা সচিবের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ সেই আদেশ স্থগিত করেছিলেন। তবে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতা এড়িয়ে সরকার নিজেই প্রশাসনিকভাবে ছুটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
এর আগে নির্বাচন, গণভোট ও শিবরাত্রী ব্রত উপলক্ষে টানা পাঁচ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে ক্লাস শুরু হয়েছিল। তবে কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী বুধবার থেকেই অনেক কলেজে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশে একই ধারার শিক্ষা বর্ষপঞ্জি প্রতিষ্ঠিত হলো।
অভিভাবকদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, তীব্র গরমে রোজার মধ্যে ছোট ছোট বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াত করা কষ্টকর ছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তথ্যসহায়তাঃবিডিনিউজ24



















