০৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎সড়কে ‘সমঝোতার’ টাকা তোলাকে চাঁদা মানতে নারাজ যোগাযোগ মন্ত্রী

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৫১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে।

‎সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে এক নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

তাঁর মতে, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে যদি মালিক বা শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা সংগ্রহ করে, তবে তাকে ‘চাঁদা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সুযোগ নেই। কেবল কাউকে জোরপূর্বক টাকা দিতে বাধ্য করা হলেই তাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে।

 

‎বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু ও আসন্ন ঈদযাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

‎চাঁদা বনাম কল্যাণ তহবিল: মন্ত্রীর ব্যাখ্যাঃ

‎পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “সড়কে তথাকথিত যে চাঁদার কথা বলা হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না। এখানে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি রয়েছে। তারা নিজেদের কল্যাণে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। এটি অনেকটা অলিখিত বিধির মতো দাঁড়িয়ে গেছে। আমি তখনই তাকে চাঁদা বলতে চাই, যখন সেটি কেউ দিতে চায় না বা কাউকে দিতে বাধ্য করা হয়।”

‎তিনি আরও যোগ করেন, “মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে তা মালিকদের স্বার্থে ব্যবহারের দাবি করে। সেই অর্থের কতটুকু প্রকৃত কল্যাণে ব্যয় হয়, তা নিয়ে হয়তো বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু তারা এটি করে সমঝোতার ভিত্তিতে।”

‎রাজনৈতিক আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণঃ

‎পরিবহন সেক্টরে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, “শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা সমঝোতার মাধ্যমেই অর্থ তোলে। তবে এটা ঠিক যে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য সেখানে কাজ করে। কিন্তু যেহেতু এই প্রক্রিয়াটি নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তাই একে আমাদের পক্ষ থেকে ‘চাঁদা’ হিসেবে দেখার সুযোগ হচ্ছে না।”

‎তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জায়গাগুলোতে বাইরে থেকে কেউ চাপ প্রয়োগ করে সুবিধা নেবে বা চাঁদাবাজি করবে—এমন সুযোগ আমরা দেব না। মালিকদের সংগৃহীত অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না বা এর মাধ্যমে সাধারণ মালিকরা বঞ্চিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব।”

‎মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনঃ

‎মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে মহাসড়কের ওপরই বাজার বসে গেছে। এসব অপরিকল্পিত বাজারের কারণে যানজট প্রকট হচ্ছে। আমরা দ্রুতই এগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে কাজ শুরু করব।”

‎ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গতবারের মতো এবারও দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ছুটি ছোট হয়ে গেলে সড়কে মানুষের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। গতবার ছুটি বেশি থাকায় মানুষ অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। এবারও আমরা সেই সফল মডেলটি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

‎ভোগান্তি কমাতে নতুন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আশা করছি আমরা সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে সক্ষম হব। ছুটির বিষয়ে আরও ৫ থেকে ১০ দিন পর আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা দেশবাসীকে জানাতে পারব।”

‎তথ্যসহায়তাঃদিডেইলিস্টার

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎সড়কে ‘সমঝোতার’ টাকা তোলাকে চাঁদা মানতে নারাজ যোগাযোগ মন্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ০৮:৫১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে এক নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

তাঁর মতে, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে যদি মালিক বা শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা সংগ্রহ করে, তবে তাকে ‘চাঁদা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সুযোগ নেই। কেবল কাউকে জোরপূর্বক টাকা দিতে বাধ্য করা হলেই তাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে।

 

‎বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু ও আসন্ন ঈদযাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

‎চাঁদা বনাম কল্যাণ তহবিল: মন্ত্রীর ব্যাখ্যাঃ

‎পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “সড়কে তথাকথিত যে চাঁদার কথা বলা হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না। এখানে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি রয়েছে। তারা নিজেদের কল্যাণে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। এটি অনেকটা অলিখিত বিধির মতো দাঁড়িয়ে গেছে। আমি তখনই তাকে চাঁদা বলতে চাই, যখন সেটি কেউ দিতে চায় না বা কাউকে দিতে বাধ্য করা হয়।”

‎তিনি আরও যোগ করেন, “মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে তা মালিকদের স্বার্থে ব্যবহারের দাবি করে। সেই অর্থের কতটুকু প্রকৃত কল্যাণে ব্যয় হয়, তা নিয়ে হয়তো বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু তারা এটি করে সমঝোতার ভিত্তিতে।”

‎রাজনৈতিক আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণঃ

‎পরিবহন সেক্টরে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, “শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা সমঝোতার মাধ্যমেই অর্থ তোলে। তবে এটা ঠিক যে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য সেখানে কাজ করে। কিন্তু যেহেতু এই প্রক্রিয়াটি নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তাই একে আমাদের পক্ষ থেকে ‘চাঁদা’ হিসেবে দেখার সুযোগ হচ্ছে না।”

‎তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জায়গাগুলোতে বাইরে থেকে কেউ চাপ প্রয়োগ করে সুবিধা নেবে বা চাঁদাবাজি করবে—এমন সুযোগ আমরা দেব না। মালিকদের সংগৃহীত অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না বা এর মাধ্যমে সাধারণ মালিকরা বঞ্চিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব।”

‎মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনঃ

‎মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে মহাসড়কের ওপরই বাজার বসে গেছে। এসব অপরিকল্পিত বাজারের কারণে যানজট প্রকট হচ্ছে। আমরা দ্রুতই এগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে কাজ শুরু করব।”

‎ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গতবারের মতো এবারও দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ছুটি ছোট হয়ে গেলে সড়কে মানুষের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। গতবার ছুটি বেশি থাকায় মানুষ অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। এবারও আমরা সেই সফল মডেলটি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

‎ভোগান্তি কমাতে নতুন কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আশা করছি আমরা সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে সক্ষম হব। ছুটির বিষয়ে আরও ৫ থেকে ১০ দিন পর আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা দেশবাসীকে জানাতে পারব।”

‎তথ্যসহায়তাঃদিডেইলিস্টার