০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
‎সন্দ্বীপে এমপি মোস্তফা কামাল পাশাঃ

সন্তানের মোবাইল আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ‘বাটন ফোন’ ব্যবহারের পরামর্শ

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলা স্মার্টফোন আসক্তি এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। 

তিনি মনে করেন, সন্তানদের ডিজিটাল আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনে নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে।

সোমবার সকালে সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিভাবকদের প্রতি স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ও সীমিত ফিচারের ‘বাটন ফোন’ ব্যবহারের এক ব্যতিক্রমী আহ্বান জানান।

সোমবার বেলা ১১টায় মগধরা ইউনিয়নের মাস্টার সায়েদুল হক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মেধা বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এমপি মোস্তফা কামাল পাশা।

সেখানে তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমানে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের মোবাইল নির্ভরতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, কিন্তু এর সমাধানে নিজেরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন না। তিনি পরামর্শ দেন যে, অভিভাবকরা যদি নিজেরা স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার শুরু করেন, তবে সন্তানদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

বাটন ফোনে গেম বা আসক্তিকর অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় এটি যেমন নিরাপদ, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী। সন্তানের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে বড়দেরই আগে ত্যাগের দৃষ্টান্ত দেখাতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎শিক্ষার মান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, এক সময় সন্দ্বীপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। তা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের সন্তানরা জাতীয় পর্যায়ে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বর্তমানে সরকারি স্কুল ও কলেজের সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান বা ‘আউটপুট’ পাওয়া যাচ্ছে না।

ভালো পড়াশোনার আশায় অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে শহরমুখী হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ ও মান বৃদ্ধিতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

‎অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় সুধীজন ও অভিভাবকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোস্তফা কামাল পাশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল করলেই হবে না, সন্তানদের সঠিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার সবিনয় অনুরোধ জানান।

 

‎তথ্যসহায়তাঃআমারদেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎সন্দ্বীপে এমপি মোস্তফা কামাল পাশাঃ

সন্তানের মোবাইল আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ‘বাটন ফোন’ ব্যবহারের পরামর্শ

আপডেট সময়ঃ ০৮:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলা স্মার্টফোন আসক্তি এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। 

তিনি মনে করেন, সন্তানদের ডিজিটাল আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনে নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে।

সোমবার সকালে সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিভাবকদের প্রতি স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ও সীমিত ফিচারের ‘বাটন ফোন’ ব্যবহারের এক ব্যতিক্রমী আহ্বান জানান।

সোমবার বেলা ১১টায় মগধরা ইউনিয়নের মাস্টার সায়েদুল হক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মেধা বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এমপি মোস্তফা কামাল পাশা।

সেখানে তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমানে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের মোবাইল নির্ভরতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, কিন্তু এর সমাধানে নিজেরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন না। তিনি পরামর্শ দেন যে, অভিভাবকরা যদি নিজেরা স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার শুরু করেন, তবে সন্তানদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

বাটন ফোনে গেম বা আসক্তিকর অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় এটি যেমন নিরাপদ, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী। সন্তানের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে বড়দেরই আগে ত্যাগের দৃষ্টান্ত দেখাতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎শিক্ষার মান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, এক সময় সন্দ্বীপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। তা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের সন্তানরা জাতীয় পর্যায়ে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বর্তমানে সরকারি স্কুল ও কলেজের সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান বা ‘আউটপুট’ পাওয়া যাচ্ছে না।

ভালো পড়াশোনার আশায় অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে শহরমুখী হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ ও মান বৃদ্ধিতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

‎অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় সুধীজন ও অভিভাবকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোস্তফা কামাল পাশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শুধু জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল করলেই হবে না, সন্তানদের সঠিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার সবিনয় অনুরোধ জানান।

 

‎তথ্যসহায়তাঃআমারদেশ