১২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সন্ত্রাসীদের চাঁদার দাবি আমলে নেননি চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বাড়ি লক্ষ্য করে মাস্ক পরা সন্ত্রাসীদের গুলি

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৩ বার পড়া হয়েছে।

‎চট্টগ্রাম নগরে এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বসভবন লক্ষ্য করে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ শুক্রবার সকালে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে।

 

ওই সময় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাসায় ছিলেন। তবে গুলির ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

‎পুলিশ বলছে, চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। মুজিবুর রহমানের পোশাক, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।

‎নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাতটার দিকে মাইক্রোবাসে করে এসে আটজনের একটি দল মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে। তাদের মুখে মাস্ক ছিল। বাড়ির গেটে ও পেছনে গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

‎কেন গুলি করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদার জন্য ভয় দেখাতেই বাড়ির সামনে ও পেছনে গুলি করা হয়েছে। একটি মাইক্রোবাসে ৮ জন মুখোশধারী এসেছিল। এরপর পিস্তল উঁচিয়ে কয়েকটি ফায়ার করে তারা চলে যায়।

 

বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ এই ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুবাইভিত্তিক নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাসার লোকজন কাউকে বলেননি।

‎পুলিশ সূত্র জানায়, কোটি টাকার বেশি চাঁদা দাবি করেছিলেন সাজ্জাদ। জানতে চাইলে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মাস দেড়েক আগে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে টাকা দাবি করেন। বিষয়টি ওই সময় তিনি আমলে নেননি। আজ ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।

‎জানতে চাইলে সাজ্জাদ আলী আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি কারা করেছে আমি জানি না। তবে যারা করেছে, ভালো করেছে। মুজিবুর আওয়ামী লীগের দোসরদের আবার পুনর্গঠিত করছেন বলে অভিযোগ আছে।’

‎এর আগে নগরের পাঁচলাইশ হামজার বাগ এলাকায় মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর একটি ভবনে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

 

এ ঘটনায় ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র–গুলিসহ মো. দিদার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায়ও সাজ্জাদের লোকজন জড়িত বলে ধারণা পুলিশের।

‎পুলিশ জানায়, চাঁদা না পেলেই গুলি করেন সাজ্জাদের অনুসারীরা। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচ থানার ৫ লাখের বেশি মানুষকে সাজ্জাদের বাহিনীর কারণে আতঙ্কে থাকতে হয়।

‎গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় ১০টি খুনে সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি রয়েছে জোড়া খুন। তারা আধিপত্য বজায় রাখতে নিজেদের প্রতিপক্ষকেও খুন করছে। আবার কখনো ভাড়াটে খুনি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

‎পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাজ্জাদ আলীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার অনুসারীদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় জনগণ এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

‎এদিকে, মুজিবুর রহমান তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের নিরাপত্তা এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয়। আমি আশা করি প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করবে।”

‎এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখছেন এবং আশা করছেন যে, শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

‎তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সন্ত্রাসীদের চাঁদার দাবি আমলে নেননি চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বাড়ি লক্ষ্য করে মাস্ক পরা সন্ত্রাসীদের গুলি

আপডেট সময়ঃ ০৯:২৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

‎চট্টগ্রাম নগরে এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বসভবন লক্ষ্য করে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ শুক্রবার সকালে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে।

 

ওই সময় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাসায় ছিলেন। তবে গুলির ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

‎পুলিশ বলছে, চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। মুজিবুর রহমানের পোশাক, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।

‎নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাতটার দিকে মাইক্রোবাসে করে এসে আটজনের একটি দল মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে। তাদের মুখে মাস্ক ছিল। বাড়ির গেটে ও পেছনে গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

‎কেন গুলি করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদার জন্য ভয় দেখাতেই বাড়ির সামনে ও পেছনে গুলি করা হয়েছে। একটি মাইক্রোবাসে ৮ জন মুখোশধারী এসেছিল। এরপর পিস্তল উঁচিয়ে কয়েকটি ফায়ার করে তারা চলে যায়।

 

বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ এই ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুবাইভিত্তিক নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাসার লোকজন কাউকে বলেননি।

‎পুলিশ সূত্র জানায়, কোটি টাকার বেশি চাঁদা দাবি করেছিলেন সাজ্জাদ। জানতে চাইলে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মাস দেড়েক আগে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে টাকা দাবি করেন। বিষয়টি ওই সময় তিনি আমলে নেননি। আজ ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।

‎জানতে চাইলে সাজ্জাদ আলী আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি কারা করেছে আমি জানি না। তবে যারা করেছে, ভালো করেছে। মুজিবুর আওয়ামী লীগের দোসরদের আবার পুনর্গঠিত করছেন বলে অভিযোগ আছে।’

‎এর আগে নগরের পাঁচলাইশ হামজার বাগ এলাকায় মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর একটি ভবনে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

 

এ ঘটনায় ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র–গুলিসহ মো. দিদার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায়ও সাজ্জাদের লোকজন জড়িত বলে ধারণা পুলিশের।

‎পুলিশ জানায়, চাঁদা না পেলেই গুলি করেন সাজ্জাদের অনুসারীরা। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচ থানার ৫ লাখের বেশি মানুষকে সাজ্জাদের বাহিনীর কারণে আতঙ্কে থাকতে হয়।

‎গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় ১০টি খুনে সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি রয়েছে জোড়া খুন। তারা আধিপত্য বজায় রাখতে নিজেদের প্রতিপক্ষকেও খুন করছে। আবার কখনো ভাড়াটে খুনি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

‎পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাজ্জাদ আলীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার অনুসারীদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় জনগণ এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

‎এদিকে, মুজিবুর রহমান তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের নিরাপত্তা এখন প্রধান উদ্বেগের বিষয়। আমি আশা করি প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করবে।”

‎এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখছেন এবং আশা করছেন যে, শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

‎তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো